ডিলিমিটেশন ও মহিলা বিল নিয়ে মোদী সরকারকে সাঁড়াশি চাপে ফেলার ছক, ১৫ এপ্রিল মেগা বৈঠক বিরোধীদের

আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা সংসদের অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং লোকসভা ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চাইছে কেন্দ্রের এনডিএ সরকার। তবে সরকারের এই পরিকল্পনায় জল ঢালতে কোমর বেঁধে নামছে বিরোধী শিবির। আগামী ১৫ এপ্রিল কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লির বাসভবনে রণকৌশল নির্ধারণে বৈঠকে বসছে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট।
সরকারের পরিকল্পনা বনাম বিরোধীদের পাল্টা কৌশল
বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার মহিলা সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনীগুলো এই অধিবেশনে পাস করিয়ে নিতে মরিয়া। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ইস্যুতেই সরকারকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করেছে। বিরোধীদের মূল আপত্তির জায়গা হলো ডিলিমিটেশনের ভিত্তি। কেন ২০২১ সালের পরিবর্তে ২০১১ সালের জনশুমারির তথ্য ব্যবহার করে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চলেছে আপ, আরজেডি এবং ডিএমকে-র মতো দলগুলো।
কোটার ভেতর কোটা ও সংখ্যার লড়াই
সংসদীয় পাটিগণিতের হিসেবে সংবিধানের ১৭০ (১) অনুচ্ছেদসহ একাধিক সংশোধনী পাস করতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সাফ জানিয়েছেন যে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর মতো প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক নম্বর’ বিজেপির হাতে নেই। এছাড়া সমাজবাদী পার্টি এবং আরজেডি মহিলা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ‘কোটার ভেতরে কোটা’ অর্থাৎ অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের জন্য পৃথক সংরক্ষণের দাবিতে অনড় থাকার সংকেত দিয়েছে।
আম আদমি পার্টির কড়া অবস্থান
আম আদমি পার্টির সংসদীয় দলের প্রধান সঞ্জয় সিং সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, সরকার চাইলে বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনেই অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে পারত। ডিলিমিটেশন বা জনশুমারির অজুহাতে বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করার প্রয়োজন ছিল না। এই ইস্যুতে আম আদমি পার্টি বিরোধী জোটের অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।
জোটের সংহতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
নিজেদের রাজ্যে নির্বাচনী ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছে, যা জোটের সংহতির বার্তা দিচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, সরকার সংশোধনী বিলের কপি এখনও সদস্যের হাতে দেয়নি, যা নিয়ে সংসদ উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংঘাতের ফলে সংসদীয় কার্যপ্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরির পাশাপাশি আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।
একঝলকে
- ১৫ এপ্রিল মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
- ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের অধিবেশনে রণকৌশল ঠিক করাই মূল লক্ষ্য।
- ডিলিমিটেশনে ২০১১ সালের জনশুমারি ব্যবহারের বিরোধিতা করছে বিরোধী দলগুলো।
- মহিলা সংরক্ষণে ‘কোটার ভেতরে কোটা’ এবং অবিলম্বে কার্যকরের দাবি।
- দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিল পাস করানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।