অরুণাচলের ২৩ জায়গার নাম বদলাল চীন! বেইজিংকে কড়া জবাব দিয়ে কী জানাল ভারত?

সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে দানা বেঁধেছে। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের ২৩টি স্থানের নাম পরিবর্তন করে সেগুলোকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করার চেষ্টা করেছে চীন। গত ১০ বছরের মধ্যে এটি ষষ্ঠবার যখন বেইজিং এমন উস্কানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল। তবে ভারত চীনের এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কেবল কাল্পনিক নাম দিলেই জমির মালিকানা বা বাস্তব পরিস্থিতি বদলে যায় না।
চীনের নাম পরিবর্তনের রাজনীতি ও উদ্দেশ্য
চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ বলে অভিহিত করে এবং একে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে। নিজেদের আধিপত্য জাহির করতে বেইজিং বারবার ভারতীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের ভুয়া নামের তালিকা প্রকাশ করে আসছে।
- ২০১৭ সালে মাত্র ৬টি নামের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।
- ধীরে ধীরে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ডজনখানেক নাম।
- চীন মনে করে, সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে তারা নাম পরিবর্তন করতে পারে।
- আন্তর্জাতিক স্তরে চীনের এই দাবির কোনো শক্তিশালী বা আইনগত ভিত্তি নেই।
ভারতের কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক চীনের এই পদক্ষেপকে একটি ‘দুষ্টুমি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতের কোনো অঞ্চলকে মনগড়া নাম দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। কোনো দেশ নিজের মর্জিমাফিক নাম রাখলে সেই অঞ্চলের ঐতিহাসিক বা ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ভারত দ্বিধাহীনভাবে জানিয়েছে যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য এবং অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং সবসময় থাকবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব
২০২০ সালের লাদাখ সীমান্ত বিরোধের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত কিছুকাল ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও চীনের এই নতুন কর্মকাণ্ড সেই প্রচেষ্টাকে বড়সড় ধাক্কা দিল। ভারতের মতে, চীনের এই ধরনের পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে নেতিবাচকতা তৈরি করে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ও শান্তি বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়।
ঐতিহাসিক বাস্তবতা বনাম চীনের দাবি
ঐতিহাসিকভাবে অরুণাচল প্রদেশ সবসময়ই ভারতীয় প্রশাসন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত। চীনের দাবি কেবল কাগজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যেখানে বাস্তবে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা সেখানে অত্যন্ত সক্রিয় ও শক্তিশালী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন কেবল আন্তর্জাতিক চাপে রাখা বা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালানোর জন্যই এই ধরণের তালিকা প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার স্পষ্ট করেছে যে, তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।
একঝলকে
- অরুণাচল প্রদেশের ২৩টি স্থানের নাম বদলের চেষ্টা করেছে চীন।
- বিগত ১০ বছরে এটি চীনের ষষ্ঠবারের মতো নাম পরিবর্তনের অপচেষ্টা।
- ভারত এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে একে ‘কাল্পনিক’ বলে অভিহিত করেছে।
- অরুণাচল প্রদেশকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পুনরায় ঘোষণা করেছে বিদেশ মন্ত্রক।
- এই ঘটনার ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।