বাবার হাতেই শেষ ফুটফুটে প্রাণ! স্কুল চত্বরে শিক্ষিকা স্ত্রীকে হত্যার পর মেয়েকে বিষ খাইয়ে নিজে মরল পাষণ্ড স্বামী

বাবার হাতেই শেষ ফুটফুটে প্রাণ! স্কুল চত্বরে শিক্ষিকা স্ত্রীকে হত্যার পর মেয়েকে বিষ খাইয়ে নিজে মরল পাষণ্ড স্বামী

তামিলনাড়ুর সেলাম জেলায় এক মর্মান্তিক পারিবারিক বিবাদের জেরে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিন সদস্য। ওমালুর এলাকার একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য দিবালোকে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং সন্দেহের জেরে নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে শেষ করে দেওয়ার পর আত্মঘাতী হয়েছেন ঘাতক স্বামী।

স্কুল চত্বরেই নারকীয় হত্যাকাণ্ড

কমলাপুরম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শ্রীবিদ্যা (৪৫) প্রতিদিনের মতোই স্কুলে কর্মরত ছিলেন। দুপুরের খাবারের বিরতির সময় তিনি যখন তাঁর ৫ বছর বয়সী কন্যা অশোকা শিবসুন্দরীসহ স্কুলের বারান্দায় বসে ছিলেন, ঠিক সেই সময় তাঁর স্বামী বিজয়মুরুগান (৫০) সেখানে উপস্থিত হন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের কাছে রাখা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনি শ্রীবিদ্যার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই শ্রীবিদ্যার মৃত্যু হয়।

আতঙ্কিত পড়ুয়া ও শিক্ষকরা

স্কুলের নিরাপদ পরিবেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন। সহকর্মীরা বিজয়মুরুগানকে ধরার চেষ্টা করলে তিনি তাঁর ছোট মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে স্কুলের পাঁচিল টপকে পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। স্কুল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে জঙ্গল এলাকা থেকে বিজয়মুরুগান এবং তাঁর কন্যার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মেয়েকে বিষ খাওয়ানোর পর বিজয়মুরুগান নিজেও বিষপান করে আত্মঘাতী হয়েছেন।

খুনের নেপথ্যে গভীর সন্দেহ ও দাম্পত্য কলহ

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে যে, শ্রীবিদ্যা ও বিজয়মুরুগানের বিয়ে হয়েছিল দশ বছর আগে। এটি ছিল বিজয়মুরুগানের দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি কোনো স্থায়ী কাজ করতেন না, যার ফলে পরিবারে দীর্ঘ দিন ধরে আর্থিক ও মানসিক অস্থিরতা কাজ করছিল। বেশ কিছু সময় ধরে তিনি তাঁর স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতেন এবং নিয়মিত শ্রীবিদ্যাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। জীবন বাঁচাতে শ্রীবিদ্যা পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন এবং গত এক মাস ধরে ওমালুরে আলাদাভাবে বসবাস করছিলেন। স্বামীর থেকে দূরে গিয়েও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেলেন না তিনি।

সামাজিক প্রভাব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানে এমন সহিংস ঘটনা পুরো এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে ঘরোয়া বিবাদ ও মানসিক বিকৃতি কীভাবে একটি সুস্থ পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

একঝলকে

তদন্ত: স্থানীয় থানা একটি মামলা দায়ের করেছে এবং মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থান: কমলাপুরম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ওমালুর, তামিলনাড়ু।

নিহত: শিক্ষিকা শ্রীবিদ্যা, তাঁর ৫ বছরের কন্যা এবং স্বামী বিজয়মুরুগান।

ঘটনা: স্ত্রীকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুনের পর সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজে আত্মঘাতী হন স্বামী।

কারণ: দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীর প্রতি অস্বাভাবিক সন্দেহ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *