“বিহার এখন গুজরাট থেকে চলবে, রিমোট কন্ট্রোল অমিত শাহের হাতে”, বিস্ফোরক পিকে

বিহারে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মাধ্যমে নীতীশ কুমারের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সম্রাট চৌধুরী। এনডিএ বিধায়ক দলের সর্বসম্মত নেতা হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও শরিক দলগুলো যখন এই পরিবর্তনকে উন্নয়নের নতুন ধাপ হিসেবে দেখছে, তখন জন সুরাজ-এর সূত্রধার প্রশান্ত কিশোর এই সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
প্রশান্ত কিশোরের নিশানায় বিজেপি ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার আরারিয়াতে অবস্থানকালে প্রশান্ত কিশোর বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিলেন সম্রাট চৌধুরী এবং বিজেপি নেতৃত্ব। কিশোরের দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বিজেপি প্রমাণ করেছে যে এখন বিহার পরিচালিত হবে গুজরাট থেকে।
তার বিশ্লেষণের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- রিমোট কন্ট্রোল রাজনীতি: প্রশান্ত কিশোরের মতে, নতুন সরকারের আসল চাবিকাঠি থাকবে অমিত শাহের হাতে। বিহারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দিল্লি ও গুজরাট থেকে পরিচালিত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
- শ্রমিক সংকটের উদ্বেগ: তিনি অভিযোগ করেন যে, বিহারের যুবকদের ভিন রাজ্যে সস্তা শ্রমিক হিসেবে পাঠানোর যে ধারা চলছে, তা বর্তমান ব্যবস্থায় আরও ত্বরান্বিত হবে। বিহারের মানুষ কেবল শ্রমিক হিসেবেই থেকে যাবেন, আর মালিকানা থাকবে অন্যদের হাতে।
- ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক সমালোচনা: নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ‘চাল, চরিত্র ও চেহারা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এটি বিহারের জন্য বিজেপির এক বিতর্কিত উপহার।
এনডিএ শিবিরের পাল্টা অবস্থান ও প্রত্যাশা
প্রশান্ত কিশোরের সমালোচনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে এনডিএ নেতারা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান থেকে শুরু করে বিহারের স্থানীয় নেতারা সম্রাট চৌধুরীর ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।
- উন্নয়নের ধারাবাহিকতা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিশন এবং নীতীশ কুমারের দেখানো পথে হেঁটে সম্রাট চৌধুরী বিহারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
- নীতীশ যুগের প্রভাব: সাংসদ শম্ভবী চৌধুরীর মতে, নীতীশ কুমার যেভাবে বিহারকে সাজিয়েছেন, সেই ঐতিহ্য মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, নীতীশ কুমারের মতো সম্রাট চৌধুরীও সব শ্রেণীর মানুষকে সাথে নিয়ে চলবেন।
- শীর্ষ ৫ রাজ্যের লক্ষ্য: মন্ত্রী শ্রবণ কুমার জানিয়েছেন, বিহারকে ভারতের সেরা পাঁচটি রাজ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যে সংকল্প নীতীশ কুমার নিয়েছিলেন, সম্রাট চৌধুরী সেই স্বপ্ন পূরণ করবেন বলে তাদের বিশ্বাস।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ
নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর সম্রাট চৌধুরীর হাতে ক্ষমতা আসা বিহারের রাজনীতিতে এক বড় মোড়। একদিকে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোরের মতো সমালোচকদের জনমত তৈরির চেষ্টা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজ্যের কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে কিশোর যেভাবে বিহারের শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে চলে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন, তা আগামী নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একঝলকে
- নতুন নেতা: এনডিএ বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে সম্রাট চৌধুরীর অভিষেক।
- প্রশান্ত কিশোরের দাবি: বিহারের শাসনভার পরোক্ষভাবে গুজরাটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
- বিজেপির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা রাজ্যে বাস্তবায়ন করা।
- উদ্বেগ: বিহারের যুবকদের ভিন রাজ্যে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক।
- নীতীশ কুমারের ভূমিকা: সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত।