লক্ষ্য ২০২৯-এর ভোট: মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বড় ঘোষণা অমিত শাহের!

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ মহিলা সংরক্ষণ বিলের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সম্প্রতি এক বার্তায় তিনি এই বিলটিকে ‘সময়ের দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, দেশের নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নারী শক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য। মোদী সরকার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ সংকল্পবদ্ধ।
নারী শক্তির ক্ষমতায়ন ও সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মতে, নারী শক্তিকে তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করা এবং রাষ্ট্র গঠনে তাঁদের ভূমিকা আরও জোরালো করা এই বিলের মূল লক্ষ্য। নীতি-নির্ধারণের টেবিলে মহিলাদের উপস্থিতি কেবল লৈঙ্গিক সমতাই আনবে না, বরং তা জাতীয় উন্নয়নের গতিকেও ত্বরান্বিত করবে। শাহ আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ধারাকে সবাই সমর্থন জানাবেন।
সংসদীয় প্রেক্ষাপট ও আসন বিন্যাস
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংসদ ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাস করেছিল, যা সাধারণত মহিলা সংরক্ষণ আইন হিসেবে পরিচিত। এই আইনের অধীনে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করার বিধান রয়েছে।
খসড়া সংবিধান সংশোধন বিল অনুযায়ী, এই আইন কার্যকর হলে লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫০-এ পৌঁছাতে পারে। এটি ভারতের সংসদীয় কাঠামোর এক বিশাল সম্প্রসারণ এবং মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পথে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।
কেন জরুরি এই সংশোধনী
বর্তমান আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের আদমশুমারি এবং পরবর্তী সীমানা নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার আগে এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল না। ফলে ২০৩৪ সালের আগে এর সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতো না। তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সরকার নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মে বিশেষ পরিবর্তন আনতে চায়। এই আইনি সংশোধনীর লক্ষ্যেই ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।
একঝলকে
- মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সময়ের প্রয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।
- লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করার লক্ষ্য।
- আইনটি কার্যকর হলে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ হতে পারে।
- ২০২৯ সালের নির্বাচনেই সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশ্যে ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন।
- নীতি-নির্ধারণে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা।