পবন খেড়ার জেল নাকি স্বস্তি? আজ সুপ্রিম কোর্টে ভাগ্য নির্ধারণ, টানটান উত্তেজনা!

কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র তথা বর্ষীয়ান নেতা পবন খেরার আইনি জটিলতা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। বিদেশি পাসপোর্ট সংক্রান্ত একটি বির্তকিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় আজ, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, সুপ্রিম কোর্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট খেরাকে যে এক সপ্তাহের ‘ট্রানজিট আগাম জামিন’ দিয়েছিল, তাকেই চ্যালেঞ্জ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে আসাম সরকার।
বিচারপতি জে. কে. মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চে এই শুনানি চলবে। আজকের এই আইনি লড়াই নির্ধারণ করবে পবন খেরা কি স্বস্তি পাবেন, নাকি তাকে আসাম পুলিশের তদন্তের মুখোমুখি হতে গুয়াহাটি যেতে হবে।
বির্তকের মূলে রিঙ্কি ভুইয়া শর্মার পাসপোর্ট ইস্যু
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় দিল্লি ও গুয়াহাটিতে আয়োজিত পবন খেরার কয়েকটি সংবাদ সম্মেলন থেকে। সেখানে খেরা অভিযোগ করেন যে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিঙ্কি ভুইয়া শর্মার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা—এই তিন দেশের পাসপোর্ট রয়েছে।
কংগ্রেস নেতার দাবি, শর্মা পরিবারের দুবাই ও আমেরিকায় অঘোষিত সম্পত্তি ও শেল কো ম্পা নি রয়েছে, যা নির্বাচনী হলফনামায় গোপন করা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী ও তার স্ত্রী এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, খেরা যেসব নথি দেখিয়েছেন সেগুলো ‘এআই-জেনারেটেড’ এবং ‘ফটোশপ করা’। এই প্রেক্ষিতেই রিঙ্কি শর্মা খেরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন।
আইনি লড়াই ও আদালতের অবস্থান
গ্রেপ্তার এড়াতে পবন খেরা তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত তাকে এক সপ্তাহের ট্রানজিট আগাম জামিন দিয়ে জানায় যে, তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে নিয়মিত জামিনের আবেদন করতে হবে।
তবে আসাম সরকার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে গেছে। তাদের প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
- আঞ্চলিক এক্তিয়ার: মামলা আসামে এবং খেরা দিল্লির বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও কেন তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে আবেদন করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আসাম পুলিশ।
- পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি: আসাম সরকারের দাবি, খেরা ‘ফ্লাইট রিস্ক’ বা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন।
- অভিযোগের গুরুত্ব: জালিয়াতি ও প্রতারণার মতো গুরুতর ধারায় মামলা থাকায় তার অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাল্টা দাবি
পবন খেরার পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করছেন। তার মতে, এই মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। খেরার স্ত্রীর হায়দ্রাবাদের (তেলেঙ্গানা) সাথে যোগসূত্র থাকায় সেখানে আবেদন করা হয়েছিল, যা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের আওতাভুক্ত।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের গুরুত্ব
আজকের শুনানিতে মূলত এটি স্পষ্ট হবে যে, এক রাজ্যের হাইকোর্ট অন্য রাজ্যের মামলার ক্ষেত্রে ‘ট্রানজিট জামিন’ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে কি না। যদি সুপ্রিম কোর্ট আসাম সরকারের যুক্তি গ্রহণ করে, তবে পবন খেরার গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে।
একঝলকে
- ঘটনা: পবন খেরার জামিনের বিরুদ্ধে আসাম সরকারের আবেদনের শুনানি।
- আদালত: সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতি জে. কে. মহেশ্বরী ও বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চ)।
- অভিযোগ: আসামের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভুয়া পাসপোর্ট ও অঘোষিত সম্পত্তির অভিযোগ আনা।
- বর্তমান অবস্থা: তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের দেওয়া এক সপ্তাহের ট্রানজিট জামিন বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা।
- মূল দাবি: আসাম সরকারের মতে খেরা ‘ফ্লাইট রিস্ক’ এবং মামলাটি জালিয়াতির।