“রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে তৃণমূল, এবার আদিবাসীরাই জবাব দেবে!” বাঁকুড়ায় হুঙ্কার চম্পাই সোরেনের

“রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে তৃণমূল, এবার আদিবাসীরাই জবাব দেবে!” বাঁকুড়ায় হুঙ্কার চম্পাই সোরেনের

পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শাণালেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা চম্পাই সোরেন। মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলার রায়পুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী মোহন হাঁসদার সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি রাজ্যের শাসকদলকে ‘আদিবাসী বিরোধী’ বলে অভিহিত করেন। এই সভায় উপস্থিত জনসমাগম জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাষ্ট্রপতিকে অপমান ও আদিবাসী আবেগ

ভাষণের শুরুতেই চম্পাই সোরেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌपदी মুর্মুকে নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে, ওড়িশার একটি সাধারণ পরিবার থেকে আসা এক আদিবাসী মহিলাকে বিজেপি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসিয়েছে। কিন্তু বাংলায় এক সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে যথাযথ সম্মান দেয়নি। চম্পাইয়ের মতে, যারা দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান করতে পারে, তারা কোন মুখে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে ভোট চাইতে আসে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।

জঙ্গলমহলের অনুন্নয়ন ও দুর্নীতির অভিযোগ

রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে এনে তিনি বামফ্রন্ট ও তৃণমূল উভয় সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান। চম্পাই সোরেনের উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণগুলো হলো:

  • অবকাঠামোর বেহাল দশা: রায়পুর এলাকায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তার বর্তমান কঙ্কালসার অবস্থা দুর্নীতির জ্বলন্ত উদাহরণ।
  • বঞ্চনার ইতিহাস: ৩৫ বছরের বাম শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের পর জঙ্গলমহলের মানুষ কার্যত কিছুই পায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
  • কর্মসংস্থান ও সরকারি সুবিধা: স্থানীয় ভূমিপুত্রদের জন্য কর্মসংস্থান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে সংঘাত

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। বিশেষ করে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা পেতে পারত, যা রাজ্য সরকার বাংলায় কার্যকর করতে দেয়নি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অবিলম্বে এই সমস্ত প্রকল্প চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অনুপ্রবেশ বনাম ভূমিপুত্র ইস্যু

চম্পাই সোরেন তাঁর ভাষণে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, তৃণমূল সরকারের অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করা, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার সব সময় আদিবাসী ও ভূমিপুত্রদের স্বার্থে কাজ করেছে। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন সফল করতে তিনি উপস্থিত সাধারণ মানুষকে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।

এই জনসভায় প্রাক্তন বিধায়ক ড. নিক্কি হেমব্রমসহ বিজেপির বহু কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। চম্পাই সোরেনের এই সফর জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

একঝলকে

  • চম্পাই সোরেন তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘আদিবাসী বিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
  • রাষ্ট্রপতি দ্রৌपदी মুর্মুর আসাম্মানকে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
  • ১৪০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • আয়ুষ্মান ভারতসহ কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে কার্যকর না করার সমালোচনা করা হয়েছে।
  • অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *