নাসিক TCS-এ ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্থার পর্দাফাঁস! মাস্টারমাইন্ড এইচআর ম্যানেজার নিদা খান?

মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) বিপিও ইউনিটে যৌন হেনস্থা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ কর্মপরিবেশের ছবি, যেখানে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে খোদ এইচআর ম্যানেজার নিদা খানের বিরুদ্ধে। গত ৪০ দিনের গোপন তদন্তের পর এই ঘটনায় নয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ছয়জন টিম লিডারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
কে এই নিদা খান
নিদা খান পুণের সাবিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী এবং নাসিক টিসিএস বিপিও ইউনিটের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিনি কো ম্পা নির অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির (আইসিসি) সদস্য ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ‘পশ’ (POSH) আইন মেনে চলা ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের পদের অপব্যবহার করে অপরাধীদের সুরক্ষা দিয়েছেন।
অভিযোগের স্বরূপ ও পদ্ধতি
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণী কর্মীদের টার্গেট করা হতো। অভিযুক্ত টিম লিডাররা ভালো বেতন, পদোন্নতি এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলতেন। নির্যাতনের শিকার নারীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার গভীরতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
- শারীরিক হেনস্থা ও ব্ল্যাকমেইল: অভিযোগ রয়েছে যে অনেক কর্মীকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হতো এবং পরবর্তীতে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা হতো।
- জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা: একাধিক নারী অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের নামাজ পড়তে, রোজা রাখতে এবং আমিষ খাবার গ্রহণে বাধ্য করা হতো। চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁদের ওপর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য মানসিক ও পেশাগত চাপ সৃষ্টি করা হতো।
- প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা: অভিযোগকারীরা প্রায় ৭৮টি ইমেল এবং চ্যাটের মাধ্যমে বারবার অভিযোগ জানালেও নিদা খান কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো তিনি এটিকে ‘কর্পোরেট সংস্কৃতির সাধারণ অংশ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার নেপথ্যে বিশ্লেষণ
এই ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে। যেখানে একজন এইচআর ম্যানেজার নিজেই আইসিসি কমিটির সদস্য হয়ে অভিযোগ ধামাচাপা দেন, সেখানে সাধারণ কর্মীদের নিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। তদন্তকারীদের মতে, নিদা খান এই চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সচেতনভাবে অভিযোগগুলো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছেন এবং অপরাধী পুরুষ কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ রুখে দিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আসিফ আনসারি, দানিশ শেখ এবং শাহরুখ কুরেশির মতো টিম লিডারদের পেছনে নিদা খানের প্রত্যক্ষ মদত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
একঝলকে
বর্তমান পরিস্থিতি: পুলিশি তদন্ত চলছে, নিদা খানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল: নাসিক টিসিএস বিপিও ইউনিট, মহারাষ্ট্র।
প্রধান অভিযুক্ত: এইচআর ম্যানেজার নিদা খান (মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত)।
অভিযোগের সংখ্যা: এখন পর্যন্ত ৯টি এফআইআর দায়ের।
অপরাধের প্রকৃতি: যৌন হেনস্থা, ব্ল্যাকমেইল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের প্ররোচনা।
ভুক্তভোগী: ১৮-২৫ বছর বয়সী তরুণী নারী কর্মীরা।
গ্রেফতার: ৬ জন টিম লিডার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা।