স্কুলে আলাপ, মন্দিরে বিয়ে! ১৪ বছরেই মা হলো কিশোরী, POCSO আইনে মামলা

উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী জেলা হাসপাতালে একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার নেপথ্যে স্কুল জীবনের পরিচয়
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই অপ্রাপ্তবয়স্ক বাবা এবং মা দুজনেই আদতে মুন্সিয়ারির বাসিন্দা। তাদের আলাপ হয়েছিল স্কুলে পড়ার সময়। সেই পরিচয় থেকে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং গত বছর তারা একটি মন্দিরে বিয়ে করে। বিয়ের পর তারা পুনেতে চলে যায়। সেখানে যুবকটি একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ শুরু করে। সম্প্রতি প্রসব বেদনা শুরু হলে ওই কিশোরীকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তার বয়স দেখে চিকিৎসকরা সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
পারিবারিক পটভূমি ও আইনি জটিলতা
তদন্তে জানা গেছে, কিশোরীর পারিবারিক পরিস্থিতি বেশ জটিল। তার মা পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় সে মুন্সিয়ারিতে সৎ মায়ের কাছে থাকত। তার বাবা বর্তমানে পুনেতে একটি সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে, অভিযুক্ত যুবকটি এখনও পুনেতেই রয়েছেন এবং ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকায় ফেরেননি।
আইনগত ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
পুলিশ এই ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যেহেতু মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই সম্মতিতে বিয়ে বা শারীরিক সম্পর্ক হলেও তা আইনিভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই কারণেই যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর পকসো আইনে মামলা করা হয়েছে। শিশু কল্যাণ সমিতির (CWC) সভাপতি লক্ষ্মণ সিং খাতি জানিয়েছেন যে, তারা সোমবার এই খবর পেয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে কিশোরীর স্বাস্থ্যের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তার যথাযথ যত্নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
একঝলকে
বর্তমান অবস্থা: শিশু কল্যাণ সমিতি ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে কিশোরী।
স্থান: পিথোরাগড়, উত্তরাখণ্ড।
ঘটনা: ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সন্তান প্রসব।
পরিচয়: স্কুল জীবনে আলাপ এবং মন্দিরে বিয়ে।
আইনি পদক্ষেপ: অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা।