নিজের স্ত্রী উষাকেই নীতিশিক্ষা! H-1B ভিসা বিতর্কে জেডি ভেন্সের কড়া বার্তা— ‘আগে আমেরিকার কথা ভাবুন’!

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স এইচ-১বি ভিসা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জালিয়াতি রুখতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি এই ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো তুলে ধরেন এবং যারা করদাতাদের অর্থ তছরুপ করছে, তাদের সরাসরি জেল খাটানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে কেবল প্রশাসনিক কড়াকড়ি নয়, অভিবাসীদের আনুগত্য নিয়েও ভেন্সের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জালিয়াতি রোধে কঠোর টাস্ক ফোর্স
জেডি ভেন্স স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতির পরিমাণ ছোট হোক বা বড়—তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই সমস্যা মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স কাজ করছে। তার মতে:
- ভিসা বা ট্যাক্স সংক্রান্ত যেকোনো জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
- যারা এই জালিয়াতিতে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও সমভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- করদাতাদের অর্থের অপচয় রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
আনুগত্য ও জাতীয়তাবোধের প্রসঙ্গ
ভেন্স তার বক্তব্যে দক্ষ অভিবাসীদের অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। নিজের শ্বশুরবাড়ির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেক এইচ-১বি ভিসা ধারী আমেরিকাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে এর পরপরই তিনি একটি সূক্ষ্ম কিন্তু শক্ত বার্তা প্রদান করেন। তার মতে, যারা অন্য দেশ থেকে এসে আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হলো আমেরিকার স্বার্থ নিয়ে ভাবা। যে দেশ থেকে তারা এসেছেন, তার চেয়ে বর্তমান আবাসস্থলের প্রতি আনুগত্য থাকাকেই তিনি নাগরিকত্বের মূল শর্ত হিসেবে দেখছেন।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
বিভিন্ন সময়ে জেডি ভেন্স তার স্ত্রী ঊষা ভেন্সের ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এবারও তিনি পরোক্ষভাবে উল্লেখ করেন যে, আমেরিকার সামগ্রিক উন্নতির জন্য সকলকে নিজেকে ‘আমেরিকান’ হিসেবে ভাবতে হবে। ইতিপূর্বে তিনি ধর্মবিশ্বাস বা জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও আমেরিকান আদর্শ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এইচ-১বি ভিসা নিয়ে তার এই অবস্থান মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই প্রতিফলন।
সম্ভাব্য প্রভাব
ভেন্সের এই কঠোর অবস্থানের ফলে আগামী দিনে এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করার ক্ষেত্রে অধিকতর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি ও আইটি খাতে যারা এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য আইনি কমপ্লায়েন্স আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একঝলকে
- এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির সাথে জড়িতদের সরাসরি জেলে পাঠানোর ঘোষণা।
- টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে জালিয়াতি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি।
- দক্ষ অভিবাসীদের অবদানের প্রশংসা করলেও আমেরিকান স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ।
- নিজেকে পূর্ণাঙ্গ আমেরিকান হিসেবে ভাবার এবং পূর্বতন দেশের চেয়ে আমেরিকার প্রতি বেশি অনুগত থাকার আহ্বান।