“দেরি হলেও স্বাগত!” নারী সংরক্ষণ বিলে মোদী সরকারকে সমর্থন মায়াবতীর, চাইলেন ৫০% কোটা

লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। মায়াবতীর মতে, দেশে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক কথা হলেও সঠিক নীতির অভাবে তা বাস্তবায়নে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ ও মায়াবতীর অবস্থান
মায়াবতী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তার দল শুরু থেকেই নারীদের জন্য তাদের জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে অর্থাৎ ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাবকেও তিনি সমর্থন দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, এসসি, এসটি এবং ওবিসি সমাজের মতো নারীরাও দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার। এই বিলটি পাস হলে ক্ষমতার অলিন্দে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সহায়ক হবে।
বিএসপি প্রধানের বক্তব্যের মূল দিকগুলো
- দেরিতে হলেও সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ: বিলটি আনতে অনেক দেরি করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তবে বর্তমান পদক্ষেপটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
- বিএসপির মূল দাবি: নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ নয় বরং জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের পক্ষপাতি বিএসপি।
- রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা: মায়াবতী অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ ও বাধ্যবাধকতার কারণে এই বিলটি এতদিন আটকে রেখেছিল। বিশেষ করে কংগ্রেসের পূর্ববর্তী ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি।
- ড. আম্বেদকরের অবদান: নারীদের ভোটাধিকার ও সমানাধিকার নিশ্চিত করার জন্য তিনি ড. বি আর আম্বেদকরের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
দলিত ভোটব্যাংক নিয়ে সতর্কতা
সংরক্ষণ বিলের পাশাপাশি মায়াবতী দলিত রাজনীতি নিয়েও সরব হয়েছেন। বাবা সাহেব আম্বেদকরের জয়ন্তী উপলক্ষে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দলিত ভোটব্যাংক দখল করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। বিএসপির নীল রঙ এবং প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন। তার মতে, দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় বিএসপি-র আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিরোধীরা এসব কৌশল নিচ্ছে।
নারী নিরাপত্তা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
মায়াবতী বর্তমান সময়ে নারী নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শুধুমাত্র বিলে সায় দিলেই হবে না, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সংসদীয় এই পদক্ষেপ যেন কেবল দলগত রাজনীতির উর্ধ্বে থাকে এবং দ্রুত কার্যকর হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একঝলকে
- লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণে বিএসপির সমর্থন।
- নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দীর্ঘমেয়াদী দাবি পুনর্ব্যক্ত।
- বিল পাসে বিলম্বের জন্য পূর্ববর্তী সরকার ও দলগুলোর সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করা।
- নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থার ওপর জোর।
- দলিত ভোটব্যাংক ধরে রাখতে এবং আম্বেদকরের আদর্শ প্রচারে বিএসপি কর্মীদের সতর্কতা।