ভোটের লড়াইয়ে এবার মহিলারাও সমান অংশীদার! কী এই ‘নারী শক্তি বন্দন’ আইন? একনজরে ১০টি তথ্য

ভোটের লড়াইয়ে এবার মহিলারাও সমান অংশীদার! কী এই ‘নারী শক্তি বন্দন’ আইন? একনজরে ১০টি তথ্য

নারীর ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পথে হাঁটছে ভারত। সম্প্রতি দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত ‘নারী শক্তি ও বন্দন’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১৬ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হতে যাচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে ঝুলে থাকা এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নারী শক্তি বন্দন অধিনায়ম ও এর গুরুত্ব

নারী শক্তি বন্দন অধিনায়ম মূলত সংসদ এবং বিধানসভায় নারীদের জন্য আসন নিশ্চিত করার একটি আইনি প্রক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এটি কেবল নারী ক্ষমতায়ন নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে। ভারতের রাজনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের বিন্যাস ও পরিধি

এই বিলের মাধ্যমে লোকসভা এবং প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভায় মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে এই আইনটি রাজ্যসভা বা বিধান পরিষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

বিশেষ কোটা ও সময়সীমা

নারীদের সামগ্রিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে এই আইনের অধীনে তফশিলি জাতি (SC) এবং তফশিলি উপজাতি (ST) নারীদের জন্য আলাদা কোটা বা উপ-সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই আইনটি ১৫ বছরের জন্য কার্যকর করা হবে। তবে প্রয়োজন সাপেক্ষে সরকার এই সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করার ক্ষমতা রাখে।

বাস্তবায়নের সময়কাল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিলটি সংসদে পেশ হলেও এটি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। পরবর্তী জনগণনা এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ২০২৯ সালের দিকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালে এই বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় কোনো রাজনৈতিক দলই এর বিরোধিতা করেনি, বরং সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষই সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছিল।

একঝলকে নারী সংরক্ষণ বিল

  • সংরক্ষণের হার: লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন।
  • বিল পেশের তারিখ: ১৬ এপ্রিল।
  • লক্ষ্য: রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়ন।
  • তফশিলি সুবিধা: SC এবং ST নারীদের জন্য বিশেষ কোটার ব্যবস্থা।
  • কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময়: ২০২৯ সাল (জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর)।
  • মেয়াদ: প্রথম পর্যায়ে ১৫ বছর।
  • ব্যতিক্রম: রাজ্যসভা এবং বিধান পরিষদে এই সংরক্ষণ কার্যকর নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *