এক সিরিঞ্জেই সর্বনাশ! পাকিস্তানে ৩০০-র বেশি শিশু HIV পজিটিভ, তোলপাড় বিশ্ব

এক সিরিঞ্জেই সর্বনাশ! পাকিস্তানে ৩০০-র বেশি শিশু HIV পজিটিভ, তোলপাড় বিশ্ব

পাকিস্তানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চরম অবহেলার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সেদেশের একটি সরকারি হাসপাতালে একই সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারের ফলে ৩৩১ জন শিশু এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্যটি সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। মূলত চিকিৎসার নামে অনিরাপদ ইনজেকশন পদ্ধতি অনুসরণ করায় এত বিপুল সংখ্যক শিশু মরণব্যাধি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

সংক্রমণের কারণ ও ভয়াবহতা

বিবিসির এক গোপন অনুসন্ধানে পাকিস্তানের টিএইচक्यू হাসপাতাল টৌনসায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মারাত্মক ব্যর্থতা ধরা পড়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, হাসপাতালের কর্মীরা হাই-রিস্ক মাল্টি-ডোজ ভায়াল ব্যবহার করছেন এবং একই সিরিঞ্জ দিয়ে একাধিক শিশুকে ইনজেকশন দিচ্ছেন। এমনকি তারা ইনজেকশন দেওয়ার সময় জীবাণুমুক্ত গ্লাভস ব্যবহার করছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুঁই পরিবর্তন করলেও যদি সিরিঞ্জের পেছনের বডি একই থাকে, তবে ভাইরাস সহজেই নতুন তরল ও পরবর্তী রোগীর শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এক পরিবারের একাধিক আক্রান্ত ও মৃত্যু

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়ে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে শিশুটি তীব্র জ্বর ও অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঘটনার কিছুদিন পরেই ওই মৃত শিশুর বোনও এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, সরকারি হাসপাতালে রুটিন চিকিৎসার সময় দেওয়া দূষিত ইনজেকশন থেকেই তাদের সন্তানরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসক ড. গুল কায়সারানি প্রথম এই বিষয়টি লক্ষ্য করেন, যখন তার ক্লিনিকে আসা শিশুদের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে এইচআইভি সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়।

পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞ মতামত

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে টৌনসায় অন্তত ৩৩১ জন শিশুর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. আলতাফ আহমেদ ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানান, সেখানে নার্সদের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ থেকে তরল বের করে অন্য সহকর্মীকে দিতে দেখা গেছে, যা পুনরায় ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতিটি সুরক্ষা নীতিকে লঙ্ঘন করে। এছাড়া ল্যাবরেটরির কাউন্টারটপে খোলা সুঁই এবং যত্রতত্র মেডিকেল বর্জ্য ফেলে রাখার মতো চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও সেখানে পরিলক্ষিত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের অস্বীকার

এতসব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় স্বীকার করতে নারাজ। হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ড. কাসিম বুজদার দাবি করেছেন, এই ভিডিওগুলো সাজানো হতে পারে কিংবা তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের ঘটনা। তিনি হাসপাতালকে রোগীদের জন্য নিরাপদ বলে দাবি করলেও পরিস্থিতির কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

একঝলকে

• স্থান: টিএইচक्यू হাসপাতাল টৌনসা, পাকিস্তান।

• আক্রান্তের সংখ্যা: ৩৩১ জন শিশু এইচআইভি পজিটিভ।

• মূল কারণ: একই সিরিঞ্জের একাধিকবার ব্যবহার এবং অনিরাপদ ইনজেকশন পদ্ধতি।

• বর্তমান পরিস্থিতি: সংক্রমণে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।

• হাসপাতালের অবস্থান: কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ফুটেজকে বিতর্কিত বলে দাবি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *