ডিভোর্সের চুক্তিতে সই মানেই চূড়ান্ত, আর পাল্টানো যাবে না মত: ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

ডিভোর্সের চুক্তিতে সই মানেই চূড়ান্ত, আর পাল্টানো যাবে না মত: ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের চুক্তিতে সই করার পর আর পিছু হটা যাবে না। দেশের বিচার ব্যবস্থায় ডিভোর্স সংক্রান্ত আইনি জটিলতা কমাতে এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, দুই পক্ষ একবার বিবাদের নিষ্পত্তিতে রাজি হয়ে গেলে পরবর্তীকালে কোনো পক্ষই এককভাবে সেই সম্মতি ফিরিয়ে নিতে পারবেন না।

আদালতের মতে, আইনি ডিক্রি জারি হওয়ার আগে পর্যন্ত সাধারণত সম্মতি প্রত্যাহারের সুযোগ থাকলেও, মধ্যস্থতার মাধ্যমে হওয়া চুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো পক্ষ জোরজবরদস্তি বা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তবেই চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্ভব। অন্যথায়, বিনা কারণে চুক্তি থেকে সরে আসার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর জরিমানাও ধার্য করা হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, আদালত অনুমোদিত মধ্যস্থতার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতেই এই কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অন্যথায় মধ্যস্থতার সামগ্রিক ভিত্তি ও আইনি বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।

দিল্লির এক দম্পতির মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ২০০০ সালে বিবাহিত ওই দম্পতি দীর্ঘ দুই দশক সংসার করার পর ২০২২ সালে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন। পারিবারিক আদালতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে স্ত্রী সেই সম্মতি প্রত্যাহার করে স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করেন।

পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করতেই বিচ্ছেদের চুক্তির পর নতুন করে মামলা করা হয়েছিল। আদালত ওই মহিলার দায়ের করা গার্হস্থ্য হিংসার মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে সামাজিক ও আইনি ক্ষেত্রে কিছু সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

  • বিচারের দ্রুত নিষ্পত্তি: বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বারবার মত বদলানোর প্রবণতা কমলে আদালতের মূল্যবান সময় বাঁচবে।
  • মধ্যস্থতায় গুরুত্ব: আদালতের বাইরে বা ভেতরে সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হবে।
  • হয়রানি বন্ধ: আইনি প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে একে অপরকে হেনস্থা করার সুযোগ কমবে।

একঝলকে

  • মূল রায়: পারস্পরিক সম্মতিতে ডিভোর্স চুক্তির পর আর সম্মতি প্রত্যাহার করা যাবে না।
  • ব্যতিক্রম: শুধুমাত্র প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ প্রমাণিত হলেই চুক্তি থেকে সরে আসা সম্ভব।
  • সতর্কবার্তা: ভিত্তিহীনভাবে চুক্তি ভাঙার চেষ্টা করলে জরিমানা গুনতে হতে পারে আবেদনকারীকে।
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ: চুক্তির পর নতুন করে মামলা করা আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *