“৪ মে আসবে আর মমতা বিদায় নেবেন!”—বাংলায় দাঁড়িয়ে দিদিকে চরম হুঁশিয়ারি অনুরাগ ঠাকুরের

“৪ মে আসবে আর মমতা বিদায় নেবেন!”—বাংলায় দাঁড়িয়ে দিদিকে চরম হুঁশিয়ারি অনুরাগ ঠাকুরের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। সম্প্রতি দমদমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য রোড শো-তে অংশ নিয়ে বর্তমান তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বর্তমান শাসনব্যবস্থার আয়ু ফুরিয়ে এসেছে এবং আগামী ৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় নিশ্চিত।

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে তোপ

অনুরাগ ঠাকুর অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। রাজ্য সরকার এখন অবৈধ কার্যকলাপের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার বক্তৃতায় উঠে আসা প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

  • অনুপ্রবেশকারীদের মদত: রাজ্য সরকার বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী এবং জাল মুদ্রা চক্রের সাথে জড়িতদের সুরক্ষা দিচ্ছে।
  • নথিপত্র জালিয়াতি: ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির মতো বেআইনি কাজগুলো প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন।
  • কর্মসংস্থানের অভাব: স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ বহিরাগতদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
  • নারী নিরাপত্তা: নারীদের ওপর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশাসনিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপি নেতা।

তোষণ ও দুর্নীতির রাজনীতি

সাংসদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জনকল্যাণের চেয়ে তোষণের রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যখন সরকার খোদ দুর্নীতিবাজদের বাঁচাতে ব্যস্ত থাকে, তখন রাজ্যের সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ? এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, যা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

নারী ক্ষমতায়ন ও কেন্দ্রীয় সাফল্য

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি অনুরাগ ঠাকুর মোদী সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঠিক পরিকল্পনার কারণে দেশে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে বেরিয়ে এসেছে। তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন:

১. বিনামূল্যে খাদ্যশস্য ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা।

২. ঘরে ঘরে গ্যাস কানেকশন ও পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা।

৩. স্বচ্ছতা অভিযান ও দরিদ্রদের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্প।

বিধানসভায় নারী সংরক্ষণ নিয়ে ঘোষণা

নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে বলেও তিনি তথ্য প্রদান করেন।

একঝলকে

  • ঘটনা: দমদমে অনুরাগ ঠাকুরের রোড শো ও রাজনৈতিক সভা।
  • মূল বক্তব্য: ৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী।
  • প্রধান অভিযোগ: অনুপ্রবেশকারী ও অপরাধীদের প্রশাসনিক মদত দান।
  • কেন্দ্রীয় লক্ষ্য: ২০২৯ সালের আগে নারী সংরক্ষণ বিল কার্যকর করা।
  • বিশেষ অধিবেশন: ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদীয় আলোচনার ডাক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *