‘এক্সট্রিমলি ডেসপারেট ইডি’, মমতা-অভিষেকের তোপের মুখে কেন্দ্র; আইপ্যাক গ্রেপ্তারিতে উত্তপ্ত বাংলা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দশ দিন আগে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের গ্রেপ্তারিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। সোমবার রাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে মধ্যরাতে পাতিয়ালা হাউস কোর্টে শুনানি এবং ১০ দিনের হেফাজতের নির্দেশ এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি ও আইনি মোড়
ইডি আদালতে দাবি করেছে যে, আইপ্যাক দীর্ঘকাল ধরে বেআইনি অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত। বিনেশ চান্দেলের এই সংস্থায় ৩৩ শতাংশ মালিকানা রয়েছে এবং অন্তত ৫০ কোটি টাকা পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। তাদের অভিযোগ:
- দেশীয় ও আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়েছে।
- ভুয়ো ইনভয়েস ও চালানের মাধ্যমে হিসেব জালিয়াতি করা হয়েছে।
- তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালিয়েছেন অভিযুক্ত।
পাল্টা যুক্তিতে বিনেশ চান্দেলের আইনজীবী বিকাশ পাওয়া জানিয়েছেন, এই গ্রেপ্তারিতে কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। দিল্লি হাইকোর্টে সমনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদন যখন বিচারাধীন, তখন এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রাজনৈতিক সংঘাত ও তৃণমূলের তোপ
এই গ্রেপ্তারির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, হার নিশ্চিত জেনে বিজেপি এজেন্সিকে লেলিয়ে দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেছেন, “বিজেপির কথা না শুনলে তৃণমূলের সবাইকে অ্যারেস্ট করার ইনস্ট্রাকশন গিয়েছে।”
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইডি-কে কটাক্ষ করে ‘এক্সট্রিমলি ডেসপারেট’ (Extremely Desperate) বলে অভিহিত করেছেন। দলের দাবি, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ফোর্স এবং এজেন্সি ব্যবহার করে বাংলায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। পাল্টাপাল্টি হিসেবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই গ্রেপ্তারির পক্ষে সওয়াল করে দাবি করেছেন, এটি আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল।
তদন্তের প্রসারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
তদন্তের জাল বিনেশ চান্দেলেই সীমাবদ্ধ নেই। ইডি ইতিমধ্যেই আইপ্যাকের অন্য দুই কর্তা প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাঠিয়েছে। এমনকি প্রতীকের স্ত্রী বার্বি জৈন ও ভাই পুলকিত জৈনকে আজই দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে গত জানুয়ারি মাসে আইপ্যাক দপ্তরে ইডি হানার মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলা ও তামিলনাড়ু— দুই রাজ্যের ভোটের আগেই এই ধরপাকড় জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ঐক্য ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।
একঝলকে
- ধৃত: বিনেশ চান্দেল (সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর, আইপ্যাক)।
- অভিযোগ: ৫০ কোটি টাকার হাওয়ালা ও অর্থ পাচার মামলা।
- বর্তমান অবস্থা: ১০ দিনের ইডি হেফাজতে রয়েছেন।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: প্রতীকের স্ত্রী ও ভাইকে আজই দিল্লিতে তলব।
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: তৃণমূলের অভিযোগ এটি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’, বিজেপির দাবি এটি সঠিক পদক্ষেপ।
- আইনি অবস্থান: ইডির পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক দাবি করে সরব অভিযুক্তের আইনজীবী।