‘বিজেপি এলে কি মাছ-মাংস বন্ধ’? বিস্ফোরক মিঠুন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। সম্প্রতি কাঁথির নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘খাদ্য নিয়ন্ত্রণ’ সংক্রান্ত প্রচারের কড়া জবাব দিলেন বিজেপি নেতা তথা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে মাছ বা মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে— তৃণমূলের এই দীর্ঘদিনের অভিযোগকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি পালটা তোপ দাগলেন শাসকদলের বিরুদ্ধে।
তৃণমূলের প্রচার ও মিঠুনের পালটা যুক্তি
নির্বাচনী প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যে খাদ্যাভ্যাসের ওপর বিধিনিষেধ চাপানো হয় এবং বাংলায় তারা ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের মাছ-মাংস খাওয়ার অধিকার কেড়ে নেবে। এই প্রসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলছেন তা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, দেশের যে সমস্ত রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানে মানুষ স্বচ্ছন্দে মাছ ও মাংস খেতে পারেন। মিঠুন মনে করেন, ভয় দেখিয়ে ভোট পাওয়ার জন্যই তৃণমূল এই ধরনের ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।
পবিত্রতা ও নির্দিষ্ট মাংসের প্রসঙ্গ
মঙ্গলবার কাঁথির সভা থেকে মিঠুন চক্রবর্তী একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বিজেপি সব ধরনের মাংসের বিরোধী নয়, তবে একটি নির্দিষ্ট পশুর মাংস যা হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র, সেটি সংরক্ষণের পক্ষপাতি তারা। মিঠুনের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে নাক দেখাচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিজেপি মাছ বা সাধারণ মাংস খাওয়ার বিরোধী নয়, কিন্তু যে মাংসটি ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে যুক্ত, সেটি নিয়ে আপস করা হবে না। এই প্রসঙ্গেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মীয় পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নিরাপত্তা ও সীমান্ত ইস্যু
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগ:
- সীমান্ত সুরক্ষা: বাংলাদেশ সীমান্তের ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার জমি চাইলেও রাজ্য সরকার তা দিচ্ছে না।
- অনুপ্রবেশ ও ভোটব্যাঙ্ক: মিঠুনের দাবি, অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দিয়ে রাজ্য সরকার পশ্চিমবাংলাকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ করার চেষ্টা করছে।
- নারী সুরক্ষা: বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলারা রাজ্যে অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা
ভোটের লড়াইয়ে জয়ের লক্ষ্যে দলীয় কর্মীদের মধ্যেকার ছোটখাটো বিরোধ মিটিয়ে এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানান মিঠুন। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে অযথা বিবাদে জড়ানোর প্রয়োজন নেই, তবে আক্রান্ত হলে যথাযথ জবাব দিতে হবে। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী কী সুবিধা ও সুরক্ষা পাওয়া যাবে, তা প্রচার করার নির্দেশ দেন তিনি।
একঝলকে
- মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী।
- বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে খাদ্যাভ্যাসে কোনো বাধা নেই বলে দাবি তাঁর।
- হিন্দুদের কাছে পবিত্র পশুর মাংস খাওয়া বা বিক্রির বিরোধিতার ইঙ্গিত দেন তিনি।
- সীমান্ত সিল করার জন্য জমি না দেওয়ার অভিযোগে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ।
- নারী সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি।