সংসদে বাড়ছে আসনের সুনামি! ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০? দক্ষিণ না কি উত্তর—পাল্লা ভারী কার?

ভারতজুড়ে লোকসভা ও বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ১৩১তম সংবিধান সংশোধন এবং সীমানা নির্ধারণ (Delimitation) বিল পেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই বিলটি উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইন কার্যকর হলে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র এবং লোকসভার আসন সংখ্যায় আমূল পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৮৫০ আসনে পৌঁছাতে পারে লোকসভা
বর্তমান লোকসভায় আসন সংখ্যা ৫৪৩, যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন বিন্যাসে ২০১১ সালের জনশুমারি বা আদমশুমারির পরিসংখ্যানকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। খসড়া বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লোকসভায় প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে অনধিক ৮১৫ জন সদস্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর প্রতিনিধিত্বের জন্য ৩৫ জন সদস্য থাকবেন।
উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন
প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণের ফলে ভৌগোলিক ভিত্তিতে আসন সংখ্যার বড় ধরনের হেরফের হতে পারে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হিন্দিভাষী উত্তর ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা আনুপাতিক হারে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- হিন্দিভাষী অঞ্চল: বর্তমানে লোকসভায় এদের অংশীদারিত্ব ৩৮.১ শতাংশ, যা প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পর বেড়ে ৪৩.১ শতাংশ হতে পারে। এখানে আসনের প্রবৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৭৬.৮ শতাংশ।
- দক্ষিণ ভারত: বর্তমানে লোকসভায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর অংশীদারিত্ব ২৪.৩ শতাংশ। নতুন নিয়মে এটি কমে ২০.৭ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
- পশ্চিম ভারত: এই অঞ্চলের আসন অংশীদারিত্ব ১৪.৩ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ১৪.৪ শতাংশ হতে পারে।
- পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত: পূর্ব ভারতে আসনের অংশীদারিত্ব ১৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ১৩.৭ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.৮ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহিলা সংরক্ষণ ও সীমানা নির্ধারণের যোগসূত্র
সরকারের এই পদক্ষেপের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হলো মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। খসড়া সংশোধনী অনুযায়ী, লোকসভা, রাজ্য বিধানসভা এবং জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লির আইনসভায় তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের পাশাপাশি সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলাদের জন্য এই আসন বরাদ্দ থাকবে। তবে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য সীমানা নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক, যা সম্পূর্ণভাবে লেটেস্ট প্রকাশিত আদমশুমারির ওপর নির্ভর করবে।
পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব
জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে আসন ভাগাভাগি হওয়ার কারণে যেসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো, তারা রাজনৈতিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অন্যদিকে, উত্তর ভারতের উচ্চ জনবহুল রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
একঝলকে
নতুন কাঠামো: ৮১৫ জন নির্বাচিত সদস্য এবং ৩৫ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধি।
প্রস্তাবিত আসন সংখ্যা: ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০।
ভিত্তি বছর: ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য।
সংসদ অধিবেশন: ১৬ এপ্রিল থেকে বিশেষ অধিবেশন শুরু।
মূল উদ্দেশ্য: মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করা।
প্রভাবিত অঞ্চল: হিন্দিভাষী রাজ্যে আসন বৃদ্ধি ও দক্ষিণ ভারতে আসন হ্রাসের সম্ভাবনা।