রাঘব চাড্ডার Z+ নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক সৌরভ ভরদ্বাজ! বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাতের বড় অভিযোগ?

আম আদমি পার্টির (আপ) রাজ্যসভা সংসদ সদস্য রাঘব চাড্ডাকে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা প্রদানের খবরকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বর্ণনা করে কড়া আক্রমণ চালিয়েছেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। তার মতে, ইডি (ED)-র ভয় এবং প্রলোভনের মুখে পড়ে রাঘব চাড্ডা নিজের দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা ও রাজনৈতিক যোগসূত্র
সৌরভ ভরদ্বাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি দীর্ঘ বার্তায় দাবি করেছেন, বিজেপি সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তার অভিযোগ, রাঘব চাড্ডাকে প্রথমে ইডির মাধ্যমে ভয় দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ভয়ের কারণে তিনি সেই দলের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করার সিদ্ধান্ত নেন, যারা তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে আপ নেতা আরও জানান:
- রাঘব চাড্ডাকে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সমর্থকরা সমালোচনা করছিলেন, তখন বিজেপি নেতারা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন।
- আম আদমি পার্টি সংসদীয় দলের উপ-নেতা পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে অশোক মিত্তলকে স্থলাভিষিক্ত করে।
- এর পরপরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করে। রাঘব চাড্ডাকে জেরা করার বদলে নতুন উপ-নেতা অশোক মিত্তলের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালায় ইডি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছে আম আদমি পার্টি। ভরদ্বাজের দাবি, বিজেপি সরকার এতটাই মরিয়া যে তারা রাঘব চাড্ডার পক্ষ নিয়ে অশোক মিত্তলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে রাঘব চাড্ডাকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা দিয়ে পুরস্কৃত করা এবং অন্যদিকে বর্তমান সক্রিয় নেতাদের ওপর কেন্দ্রীয় সংস্থাকে লেলিয়ে দেওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি দিল্লির আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যখন দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি।
একঝলকে
- রাঘব চাড্ডাকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রদান।
- আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজের অভিযোগ, ইডির ভয়ে রাঘব চাড্ডা নিজের দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
- সংসদীয় উপ-নেতা পদ থেকে রাঘবকে সরিয়ে অশোক মিত্তলকে দায়িত্ব দেয় আপ।
- দায়িত্ব পাওয়ার পরেই অশোক মিত্তলের বাড়ি ও দপ্তরে ইডির তল্লাশি অভিযান।
- বিজেপির বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ।