“একজনকে সরালে লক্ষ কর্মী জন্মাবে!” মাঝরাতে ED-র হানায় মোদী সরকারকে তীব্র চ্যালেঞ্জ মমতার

“একজনকে সরালে লক্ষ কর্মী জন্মাবে!” মাঝরাতে ED-র হানায় মোদী সরকারকে তীব্র চ্যালেঞ্জ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। আই-প্যাক (I-PAC) এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চন্দেলকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মাঝরাতে অভিযান চালিয়ে বা দলের কর্মীদের গ্রেফতার করে তৃণমূলকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রতিরোধের ডাক

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের মুখে বুথ এজেন্টদের টার্গেট করে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে ভোটের দিন তৃণমূল দুর্বল হয়ে পড়ে। তাঁর মতে, একজন কর্মীকে গ্রেফতার করলে তার জায়গায় নতুন একঝাঁক কর্মী রুখে দাঁড়াবে। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গকে এত সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

আই-প্যাক সহ-প্রতিষ্ঠাতার গ্রেফতারির ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর অভিযোগ, যারা বিরোধী দলের হয়ে কাজ করছে, কেবল তাদেরই নিশানা করা হচ্ছে। এটি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী। অভিষেক আরও দাবি করেন যে, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করলে তাদের রেহাই দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অশনিসংকেত। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই অভিযানকে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

নির্বাচনের প্রাক্কালে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য পুলিশ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কেন এত বাহিনী পাঠানো হয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি ভোটারদের, বিশেষ করে মহিলাদের অভয় দিয়ে বলেছেন যে কেউ ভোটদানে বাধা দিলে যেন তারা রুখে দাঁড়ান। কেন্দ্রীয় বাহিনী বা কোনো কর্মকর্তা হয়রানি করলে সরাসরি অভিযোগ জানানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

একঝলকে

  • ঘটনা: আই-প্যাক সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চন্দেলের গ্রেফতারি ও তৃণমূল নেতাদের ওপর ইডি-সিবিআই তৎপরতা।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান: গ্রেফতার ও ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে দমানো যাবে না।
  • অভিযোগ: নির্বাচনের আগে বুথ এজেন্টদের আটক করে বিরোধী পক্ষকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
  • দলের প্রতিক্রিয়া: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েন এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।
  • জনগণের প্রতি বার্তা: ভোটারদের ভয় না পেয়ে অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *