“পরমাণু অস্ত্র ছুঁতেও পারবে না ইরান!” তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ডেপুটি জেডি ভেন্সের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরান ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স সাফ জানিয়েছেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে না। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও শক্তিশালী চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও ট্রাম্পের অবস্থান
জেডি ভেন্সের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল সাময়িক কোনো সমঝোতায় বিশ্বাসী নয়। তারা এমন একটি ব্যাপকভিত্তিক চুক্তি চায় যেখানে ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে। ভেন্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে ঠিকই, তবে মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে স্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখা এবং সন্ত্রাসবাদে তাদের মদত বন্ধ করা।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে ভেন্সের বিশ্লেষণের কয়েকটি দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
- স্বাভাবিক সম্পর্কের শর্ত: ইরানের সামনে একটি সরাসরি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইরান যদি নিজেদের একটি ‘স্বাভাবিক দেশ’ হিসেবে পরিচালনা করে এবং উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে, তবেই আমেরিকা তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে।
- যুদ্ধবিরতি নিয়ে জটিলতা: বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে। এপি-র তথ্যমতে, মধ্যস্থতাকারীরা এই যুদ্ধবিরতি অন্তত আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী নন, তবে তিনি মনে করেন আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব।
অভিবাসন ও জাতীয় স্বার্থে কড়া বার্তা
অনুষ্ঠানে জেডি ভেন্স কেবল পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং অভিবাসীদের নিয়ে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ছাত্রীর প্রশ্নের জবাবে তিনি নাগরিকত্বের দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন।
- প্রাধিকার হবে আমেরিকা: ভেন্সের মতে, যারা আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় হতে হবে ‘আমেরিকান’। নিজের মূল দেশের চেয়ে আমেরিকার স্বার্থকে বড় করে দেখাই একজন সুনাগরিকের দায়িত্ব।
- এইচ-১বি ভিসা ও উন্নয়ন: এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতির বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও দেশের উন্নয়নে অভিবাসীদের বিশাল অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
জেডি ভেন্সের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, ওয়াশিংটন এখন ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চায়। পরমাণু ইস্যুতে কোনো ছাড় না দেওয়ার মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলসহ অন্যান্য মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে। তবে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনীহা এবং ভেন্সের কঠোর শর্তাবলি আগামীর কূটনীতিতে নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
একঝলকে
- ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র গড়তে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেডি ভেন্স।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি বড় ও স্থায়ী চুক্তি করতে আগ্রহী।
- ইরানকে স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে আচরণ করার এবং সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
- মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে মূল দেশের পরিবর্তে আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভেন্স।