“বিহারের রিমোট কন্ট্রোল এখন শাহের হাতে, বিহারিরা কি তবে শুধুই গুজরাটের শ্রমিক?” প্রশান্ত কিশোরের বিস্ফোরক মন্তব্য!

“বিহারের রিমোট কন্ট্রোল এখন শাহের হাতে, বিহারিরা কি তবে শুধুই গুজরাটের শ্রমিক?” প্রশান্ত কিশোরের বিস্ফোরক মন্তব্য!

বিহারে ক্ষমতার হাতবদল এবং সম্রাট চৌধুরীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জন সুরাজ অভিযানের প্রধান তথা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর এই পরিবর্তনকে ঘিরে কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিহারের এই নতুন সরকার কার্যত দিল্লির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে।

বিহারে ক্ষমতার পরিবর্তন ও প্রশান্ত কিশোরের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিহারে নীতীশ কুমার যুগের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সম্রাট চৌধুরীর শপথ গ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশান্ত কিশোরের দাবি, এই সরকার বিহারের মানুষের স্বার্থ রক্ষার বদলে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি আগ্রহী। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিহারের আত্মমর্যাদার পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রশান্ত কিশোরের সমালোচনার মূল দিকগুলো

প্রশান্ত কিশোর আরারিয়াতে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে বিজেপির কঠোর সমালোচনা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:

  • রিমোট কন্ট্রোল রাজনীতি: পিকে-র অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী কেবল একজন ব্যক্তি হিসেবে চেয়ারে বসেছেন, কিন্তু সরকারের আসল চাবিকাঠি থাকবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে। বিহারের শাসনব্যবস্থা এখন থেকে গুজরাট থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।
  • শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা: তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিহারের যুবসমাজ কি কেবল গুজরাটের কারখানায় অল্প বেতনে শ্রম দিতেই বাধ্য থাকবে? তার মতে, বর্তমান ব্যবস্থার ফলে বিহারের মানুষ ভবিষ্যতে কেবল শ্রমিক হিসেবেই থেকে যাবে, যেখানে মালিকানা থাকবে বাইরের হাতে।
  • বিজেপির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন: মূল্যবোধ ও নৈতিকতার কথা বলা বিজেপি কেন এমন নেতৃত্ব নির্বাচন করল, তা নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন।

পাল্টা যুক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

প্রশান্ত কিশোরের সমালোচনার বিপরীতে এনডিএ শিবিরের নেতারা নতুন সরকারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। সাংসদ শম্ভবী চৌধুরী জানান, নীতীশ কুমারের আদর্শ মেনেই সম্রাট চৌধুরী রাজ্যের উন্নয়ন করবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মতে, মোদীর লক্ষ্য এবং নীতীশ কুমারের দেখানো পথে বিহারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান কাজ। মন্ত্রী শ্রবণ কুমার আশাপ্রকাশ করেছেন যে, সম্রাট চৌধুরীর হাত ধরে বিহার দেশের শীর্ষ পাঁচটি রাজ্যের তালিকায় জায়গা করে নেবে।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীতীশ কুমারের রাজ্যসভা যাত্রা এবং সম্রাট চৌধুরীর উত্থান বিহারে বিজেপির একক আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ। প্রশান্ত কিশোর মূলত বিহারি জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে সাধারণ মানুষের আবেগ স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন। কর্মসংস্থানের অভাব এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যাকে তিনি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।

একঝলকে

  • মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সম্রাট চৌধুরী।
  • প্রশান্ত কিশোরের দাবি, বিহারের সরকার এখন গুজরাট থেকে ‘রিমোট কন্ট্রোলে’ চলবে।
  • বিহারি যুবকদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ পিকে-র।
  • এনডিএ নেতাদের দাবি, নীতীশ কুমারের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত থাকবে।
  • রাজ্যকে শীর্ষ ৫-এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নতুন সরকারের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *