মধ্যবিত্তের পকেটে বড় কোপ? লিটারে ১৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে পেট্রোলের দাম!

মধ্যবিত্তের পকেটে বড় কোপ? লিটারে ১৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে পেট্রোলের দাম!

সাধারণ মানুষের পকেটে বড় কোপ পড়তে পারে এবার। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়ামূল্যের জেরে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ সংস্থা ‘ম্যাককুয়ারি’। এই রিপোর্টটি সামনে আসতেই নতুন করে উদ্বেগে পড়েছেন মধ্যবিত্ত থেকে পরিবহন ব্যবসার সাথে যুক্ত মানুষজন।

কেন বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দেশের বাজারে জ্বালানির দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এর ফলে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো (OMCs) ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ম্যাককুয়ারির রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থাগুলোর লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে:

  • পেট্রোল: প্রতি লিটারে লোকসান প্রায় ১৮ টাকা।
  • ডিজেল: প্রতি লিটারে লোকসান প্রায় ৩৫ টাকা।

সংস্থাগুলোর বিপুল আর্থিক লোকসান

গত মাসে তেল সংস্থাগুলোর দৈনিক লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় সরকার আবগারি শুল্ক কিছুটা কমানোর পর এই ঘাটতি কমে দৈনিক ১,৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই বিশাল আর্থিক বোঝা আর বেশিদিন সংস্থাগুলো বহন করতে পারবে না। ফলে যেকোনো মুহূর্তে এই লোকসানের দায় সাধারণ ক্রেতাদের কাঁধে চাপানো হতে পারে।

মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ

মূল্যবৃদ্ধির এই আশঙ্কার পেছনে একাধিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে:

  • আন্তর্জাতিক উত্তেজনা: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের আবহ তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইউরোপে এই দাম ১৫০ ডলারের কাছাকাছি।
  • নির্বাচনী প্রভাব: রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর নির্বাচন মিটে গেলেই তেলের দাম সংশোধন করা হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ইন্ডিয়ান অয়েল বা ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলো খুচরো দামে তেমন পরিবর্তন করেনি।
  • আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা: ভারত তার চাহিদার ৮৮ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেলে দাম ১০ ডলার বাড়লে দেশে লিটার প্রতি ৬ টাকা করে চাপ বাড়ে।

সরকারি শুল্ক হ্রাসের প্রভাব

মার্চ মাসে কেন্দ্র সরকার আবগারি শুল্ক কমালেও তার পূর্ণ সুবিধা সাধারণ মানুষ পায়নি। তেল সংস্থাগুলো তাদের লোকসান মেটাতে সেই অর্থ ব্যবহার করেছে। বর্তমানে পেট্রোলে ১১.৯ টাকা এবং ডিজেলে ৭.৮ টাকা কেন্দ্রীয় কর ধার্য রয়েছে। রিপোর্ট বলছে, সরকার যদি এই কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেয়, তবুও সংস্থাগুলোর বিশাল লোকসান পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হবে না।

একঝলকে

  • পেট্রোলে লিটার প্রতি ১৮ টাকা এবং ডিজেলে ৩৫ টাকা দাম বাড়ার আশঙ্কা।
  • তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো প্রতিদিন ১,৬০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছে।
  • আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
  • নির্বাচন পরবর্তী সময়েই বড় ধরনের দাম সংশোধনের সম্ভাবনা।
  • ভারত তার তেলের চাহিদার ৮৮ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *