দক্ষিণ ভারতকে কোণঠাসা করার ছক? মোদী সরকারের ‘৫০% তত্ত্ব’ নিয়ে বিস্ফোরক চিদাম্বরম!

দক্ষিণ ভারতকে কোণঠাসা করার ছক? মোদী সরকারের ‘৫০% তত্ত্ব’ নিয়ে বিস্ফোরক চিদাম্বরম!

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে চলেছে মোদী সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। তবে সরকারের এই পরিকল্পনার নেপথ্যে থাকা গাণিতিক যুক্তিকে ‘ভাঁওতা’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম। তাঁর দাবি, এই আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং বিঘ্নিত হবে যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্য।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আসন পুনর্বিন্যাস হলে প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন গড়ে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু চিদাম্বরম এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে লোকসভায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের হার ২৪.৩ শতাংশ, যা পুনর্বিন্যাসের পর কমে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। তিনি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান যে, সরকারের দাবি অনুযায়ী তামিলনাড়ুর আসন ৩৯ থেকে বেড়ে ৫৮ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ৪৬-এর বেশি হবে না। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের আসন সংখ্যা ৮০ থেকে বেড়ে ১২০ হওয়ার কথা থাকলেও তা আসলে ১৪০-এ পৌঁছে যেতে পারে।

কেন তৈরি হচ্ছে এই বিতর্ক

আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে মূলত দুটি প্রধান অভিযোগ সামনে আসছে:

হিন্দি বলয়ের আধিপত্য: বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো, যেখানে বিজেপির প্রভাব বেশি, সেখানে আসন সংখ্যা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।

দক্ষিণী রাজ্যগুলোর বঞ্চনা: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সফল হওয়া দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাতে পারে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাজ্যকে বঞ্চিত করা হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সংসদের বিশেষ অধিবেশন ও রাজনৈতিক সমীকরণ

আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত তিনটি বিল পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

লোকসভায় ১৬ ও ১৭ এপ্রিল এই বিল নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে অংশ নিতে পারেন।

রাজ্যসভায় ১৮ এপ্রিল এই বিলের ওপর আলোচনা ও ভোটাভুটি হওয়ার কথা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী সরকার মহিলা সংরক্ষণের সাথে আসন পুনর্বিন্যাস ও আসন বৃদ্ধির বিষয়টি জুড়ে দিয়ে বিরোধীদের এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিলটির বিরোধিতা করলে বিরোধীদের ওপর মহিলা সংরক্ষণ আটকানোর তকমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একঝলকে

আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে লোকসভার মোট আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব।

পি চিদাম্বরমের দাবি, আসন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির তত্ত্বটি একটি বিভ্রম বা ভাঁওতা।

পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব ২৪.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ হতে পারে।

তামিলনাড়ুর আসন সংখ্যা প্রত্যাশিত ৫৮-এর বদলে ৪৬-এ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা।

উত্তরপ্রদেশের আসন সংখ্যা প্রত্যাশিত ১২০-এর বদলে ১৪০-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা।

১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত বিল পেশ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *