TCS, টেক মাহিন্দ্রার পর এবার ইনফোসিস! আইটি সেক্টরে নারী কর্মীদের হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ

ভারতের প্রথম সারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোতে একের পর এক বিতর্ক দানা বাঁধছে। টিসিএস-এর নাসিক ইউনিট এবং টেক মাহিন্দ্রার মুম্বই অফিসের পর এবার নাম জড়াল ইনফোসিসের। বুধবার সংস্থাটির পুনে অফিসে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও হেনস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠায় শিল্পমহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়
ইনফোসিসের পুনে বিপিএম (BPM) ইউনিটে নারী কর্মীদের হেনস্থার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হাত ধরে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে করা একাধিক পোস্টে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতাদের ট্যাগ করে অভিযোগ জানানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে পোস্টগুলো ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনৈতিক মহলেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে; মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রাণে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি অভিযোগ বা এফআইআর দায়ের করা হয়নি।
ইনফোসিসের জিরো টলারেন্স নীতি
পুরো বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই সাফাই দিয়েছে ইনফোসিস কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে যেকোনো ধরণের হেনস্থার বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য তাদের একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি রয়েছে, যারা নিরপেক্ষভাবে ঘটনার বিচার করবে।
নেপথ্য কারণ ও ধারাবাহিকতা
গত কয়েক দিনে ভারতের আইটি সেক্টরে এটি তৃতীয় বড় অভিযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, কর্পোরেট কালচারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিশৃঙ্খলাগুলো এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
- টিসিএস নাসিক কাণ্ড: নাসিকের বিপিও ইউনিটে নারী কর্মীদের যৌন হেনস্থা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগে ইতোমধ্যে এসআইটি (SIT) গঠন করা হয়েছে।
- টেক মাহিন্দ্রা বিতর্ক: মুম্বইয়ের গোরেগাঁও অফিসে নিয়োগে ধর্মীয় বৈষম্য এবং কর্পোরেট নীতি লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ইনফোসিসের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি মূলত পুনে অফিসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করছে। নামী সংস্থাগুলোতে যদি কর্মীরা সুরক্ষিত না থাকেন, তবে তা দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একঝলকে
- ঘটনাস্থল: ইনফোসিস, পুনে বিপিএম (BPM) ইউনিট।
- অভিযোগ: নারী কর্মীদের হেনস্থা এবং নিরাপত্তার অভাব।
- বর্তমান অবস্থা: সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ ভাইরাল, প্রশাসনের নজরদারি শুরু।
- সংস্থার অবস্থান: স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে তদন্তের প্রতিশ্রুতি এবং জিরো টলারেন্স নীতির কথা ঘোষণা।
- প্রেক্ষাপট: টিসিএস এবং টেক মাহিন্দ্রার পর তৃতীয় বড় আইটি সংস্থায় অস্থিরতা।