“মমতাদি চান না পাহাড়ের সমস্যার সমাধান হোক, ৫ মে-র পর সব বদলাবে”: বিস্ফোরক শাহ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের পাহাড় এখন সব দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখার সময় গোর্খাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলে গোর্খাদের অধিকার ও বিচার নিশ্চিত করা হবে।
খারাপ আবহাওয়ায় বাধা ও ভার্চুয়াল বার্তা
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে পাহাড়বাসীদের সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়েছিলেন অমিত শাহ। বুধবার উত্তরবঙ্গে তাঁর একাধিক কর্মসূচি ছিল। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার দার্জিলিংয়ে নামতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মালদা থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও গোর্খা ভোটারদের মন জয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ
বক্তব্য চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- কেন্দ্রীয় সরকার গোর্খা সমস্যার সমাধানে একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা থমকে আছে।
- গত দেড় বছরে তিনবার দিল্লি থেকে আলোচনার জন্য ডাকা হলেও মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কোনো প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেননি।
- এমনকি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলকে রাজ্যে আসার জন্য সময় দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
অমিত শাহ সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী চান না গোর্খারা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার বা বিচার পান।
বিজেপির ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি
অমিত শাহ গোর্খাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন ৫ মে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে প্রথম কাজই হবে এই সমস্যার সমাধান করা। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে:
- গোর্খাদের বিরুদ্ধে চলা সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
- পাহাড়ের বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বিজেপি।
- পাহাড়ের উন্নয়ন এবং গোর্খাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও অন্যান্য স্থানীয় দলের ভাঙা-গড়ার সমীকরণের মধ্যে বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের এই পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ কোন দিকে ঝোঁকেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শাহের এই বক্তব্য মূলত গোর্খা আবেগ এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার সুরকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ে পদ্মশিবিরের জমি আরও শক্ত করার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
একঝলকে
- খারাপ আবহাওয়ার কারণে দার্জিলিং পৌঁছতে না পেরে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন অমিত শাহ।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
- গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি।
- সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টির জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- ৫ মে সরকার গঠনের পর প্রথম কাজ হিসেবে গোর্খা ইস্যুকে বেছে নেওয়ার বার্তা।