নতিস্বীকার নয়, আলোচনার পথেই সমাধান; আমেরিকাকে কড়া বার্তা ইরানের প্রেসিডেন্টের

নতিস্বীকার নয়, আলোচনার পথেই সমাধান; আমেরিকাকে কড়া বার্তা ইরানের প্রেসিডেন্টের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দরের আলোচনার আগেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকার কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ বা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা সফল হবে না। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনার আগে কঠোর অবস্থান তেহরানের

ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা চায় না। তেহরান সবসময়ই অন্যান্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা এবং সহযোগিতার পক্ষে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কোনো রাষ্ট্র ইরানের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায় বা শক্তি প্রদর্শন করে নতি স্বীকার করাতে চায়, তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। তার মতে, ইরানি জনগণ কখনো এ ধরনের জবরদস্তিমূলক নীতি মেনে নেবে না।

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার প্রশ্ন

ইসরায়েল ও আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল এবং জনবহুল এলাকায় হামলার ঘটনাগুলোকে তিনি অমানবিক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের বিজ্ঞান মন্ত্রী তেহরানের অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট পরিদর্শনকালে মন্তব্য করেছেন যে, ইরান এমন এক শত্রুর মোকাবিলা করছে যারা কোনো নৈতিকতা বা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করে না।

ওয়াশিংটনের অনড় দাবি ও নৌ-অবরোধের হুমকি

সংযুক্ত রাষ্ট্রে আমেরিকার স্থায়ী প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আমেরিকার প্রধান দুটি দাবি হলো:

  • ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
  • হরমূজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে।

আমেরিকা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরান এই নৌপথ উন্মুক্ত না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ জারি রাখা হবে। ওয়াশিংটনের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে কারা লাভবান হবে বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার ইরানের নেই।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

এই বাকযুদ্ধের ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হরমূজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় আমেরিকার নৌ-অবরোধের হুমকি বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। আলোচনার টেবিলে বসার আগে দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সমঝোতায় পৌঁছানো বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।

একঝলকে

  • প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন ইরান কোনো চাপে আত্মসমর্পণ করবে না।
  • ইরান যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে।
  • আমেরিকা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
  • হরমূজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।
  • নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *