৬৭ বছরের বৃদ্ধের প্রেমে ১৯-এর তরুণী! মাঠের সেই ‘গোপন সাক্ষাৎ’ শেষমেশ ছাদনাতলায়, হতবাক নেটপাড়া

৬৭ বছরের বৃদ্ধের প্রেমে ১৯-এর তরুণী! মাঠের সেই ‘গোপন সাক্ষাৎ’ শেষমেশ ছাদনাতলায়, হতবাক নেটপাড়া

পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে সম্প্রতি এমন একটি বিয়ের ঘটনা সামনে এসেছে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সম্পর্কের গভীরতা নাকি শুধুই মোহ— সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী এবং ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের এই আসাম প্রেম ও পরিণয়। বয়সের ব্যবধান যেখানে প্রায় ৪৮ বছর, সেখানে এই জুটির দাবি, “ভালোবাসা কোনো বয়সের সীমানা মানে না।”

লোকচক্ষুর আড়ালে শুরু হওয়া সেই প্রেম

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই তরুণী ও বৃদ্ধের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। গ্রামের ফসলের মাঠ ও নির্জন এলাকায় তারা নিয়মিত গোপন সাক্ষাত করতেন। তরুণীটি আগে বিবাহিত ছিলেন বলে জানা গেছে, তবে তিনি তার স্বামীকে ছেড়ে এই বৃদ্ধের প্রেমে মজেছিলেন। দীর্ঘদিন লুকিয়ে দেখা করার পর গ্রামবাসীদের নজরে আসে তাদের এই সম্পর্ক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গ্রামবাসীই শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেন।

কেন এই সিদ্ধান্ত? তরুণীর দাবিতে হতবাক সবাই

বিয়ের পর থেকেই এই জুটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। বিশেষ করে তরুণীর যুক্তি শুনে অনেক নেটিজেনই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিয়ের বৈধতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই দম্পতি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতে নিজের জবানবন্দিতে তরুণীটি স্পষ্ট জানান যে, তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় এই বৃদ্ধকে বেছে নিয়েছেন। তার কথায়, “উনার কোলেই মাথা রেখে নিশ্চিন্তে থাকা আমার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়।”

এই সম্পর্কের পেছনে কারণ ও সমাজতাত্ত্বিক প্রভাব

একজন ৬৭ বছর বয়সী বৃদ্ধের সাথে ১৯ বছর বয়সী তরুণীর জীবন শুরুর পেছনে বিশেষজ্ঞরা একাধিক কারণ বিশ্লেষণ করছেন:

  • আবেগীয় নিরাপত্তা: তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বৃদ্ধের সান্নিধ্যে এক ধরণের মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন।
  • আর্থিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট: সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরণের সম্পর্কের নেপথ্যে সম্পত্তির লোভ বা আর্থিক নিরাপত্তার মতো বিষয় কাজ করতে পারে।
  • ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম সামাজিক ট্যাবু: আধুনিক সমাজে বয়সকে একটি সংখ্যা হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়লেও গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতির ওপর প্রবল ধাক্কা দেয়।

বর্তমানে এই দম্পতি তাদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনি সুরক্ষা দাবি করেছেন। সমাজ ও পরিবারের বাধা ডিঙিয়ে তাদের এই যাত্রা কতদূর স্থায়ী হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

একঝলকে

  • ঘটনার স্থান: চণ্ডীগড়, পাঞ্জাব।
  • বয়সের পার্থক্য: স্বামী ও স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান প্রায় ৪৮ বছর।
  • পূর্ব ইতিহাস: তরুণীটি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও স্বামীকে ছেড়ে বৃদ্ধের সাথে প্রেমে জড়ান।
  • আইনি পদক্ষেপ: নিরাপত্তার জন্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন এই নবদম্পতি।
  • দম্পতির দাবি: ভালোবাসা কোনো বয়স দেখে হয় না, তারা একে অপরের সাথে সুখে আছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *