পরকীয়ার নেশায় অন্ধ মা! প্রেমিকের সঙ্গে একান্ত মুহূর্ত কাটাতে নিজের সন্তানদেরই নৃশংস নির্যাতন

পরকীয়ার নেশায় অন্ধ মা! প্রেমিকের সঙ্গে একান্ত মুহূর্ত কাটাতে নিজের সন্তানদেরই নৃশংস নির্যাতন

তামিলনাড়ুর ইরোড জেলার গোপিচেট্টিপালায়ম এলাকায় এক শিউরে ওঠা অমানবিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের অবৈধ সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় দুই শিশু সন্তানকে পৈশাচিক কায়দায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নেপথ্য কারণ

গোপিচেট্টিপালায়মের মোদাচ্চুর মুথুনগরের বাসিন্দা সন্তোষ (৩০) পেশায় একজন বেসরকারি বাস কন্ডাক্টর। তাঁর স্ত্রী বছর সাতাশের আম্মুকুত্তির সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১১ তারিখ সন্তোষ কাজে বেরিয়ে গেলে আম্মুকুত্তি তাঁর প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে আনেন। সেই সময় তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলে মহিলেশ এবং চার বছর বয়সী মেয়ে শ্রীনিধি বাড়িতে খেলাধুলা করছিল।

নির্দয় নির্যাতন ও বর্বরতা

অভিযোগ উঠেছে, প্রেমিকের সঙ্গে নিভৃতে সময় কাটানোর পথে সন্তানরা বাধা হয়ে দাঁড়ালে আম্মুকুত্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নিজের মাতৃত্ব ভুলে গিয়ে প্রেমিকের সামনেই তিনি দুই অসহায় শিশুকে বেধড়ক মারধর ও নির্মম নির্যাতন শুরু করেন। শিশুদের চিৎকারেও তাঁর মন গলেনি। এই হামলায় দুই শিশু গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা

সন্তোষ কাজ থেকে বাড়ি ফিরে সন্তানদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে হতভম্ব হয়ে যান। তিনি দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গোপি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। পরবর্তীতে স্ত্রীর এই পাশবিক আচরণের বিরুদ্ধে তিনি স্থানীয় গোপি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সন্তোষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত মা আম্মুকুত্তিকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন তাঁর প্রেমিক। পুলিশ অভিযুক্ত ওই যুবককে ধরার জন্য তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে।

একঝলকে

  • ঘটনার স্থান: গোপিচেট্টিপালায়ম, ইরোড জেলা।
  • অভিযুক্ত: আম্মুকুত্তি (২৭), যিনি সন্তানদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।
  • ভিকটিম: সাত বছরের ছেলে ও চার বছরের মেয়ে।
  • ঘটনার কারণ: অবৈধ সম্পর্কের পথে বাধা হওয়া।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: অভিযুক্ত মা গ্রেপ্তার এবং পলাতক প্রেমিকের খোঁজে পুলিশি তল্লাশি অব্যাহত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *