মমতার গাড়ি তল্লাশি কি হয়েছিল? অভিষেক-রুজিরার নাম করে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ? মুখ খুলল কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মাঝেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি তল্লাশি এবং অভিষেক ও রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশিকা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন।
বিতর্কের সূত্রপাত ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ
বুধবার ইসলামপুরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, দমদম বিমানবন্দরে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি তৃণমূল নেতাদের গাড়ি তল্লাশি করা হয়, তবে কেন প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ি তল্লাশি করা হবে না? নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হন।
হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশের পাল্টা অভিযোগ তৃণমূলের
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পাশাপাশি তৃণমূলের দাবি, কমিশনের পর্যবেক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের গাড়ি তল্লাশি করার জন্য ফ্লাইং স্কোয়াডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তৃণমূল লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।
কমিশনের সাফাই ও বিশ্লেষণ
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য থেকে উঠে আসা মূল দিকগুলো হলো:
- গাড়ি তল্লাশির ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় বাহিনী এককভাবে কোনো ভিভিআইপি-র গাড়ি তল্লাশি করতে পারে না। এর জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সমপদমর্যাদার আধিকারিকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
- হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার: কমিশন সরাসরি কোনো নেতার নাম করে নির্দেশের কথা অস্বীকার করলেও জানিয়েছে, তল্লাশি চালানোর জন্য সবসময় লিখিত আদেশের অপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান করা অস্বাভাবিক নয়।
- তথ্যাদি খতিয়ে দেখা: তৃণমূলের হাতে আসা ‘নোটিফিকেশন’ বা নির্দেশের উৎস সম্পর্কে কমিশন অবগত নয় বলে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
ভোটের মুখে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ জনমানসে এবং প্রশাসনিক স্তরে বড় প্রভাব ফেলে। বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী, কমিশন যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে কাজ করে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, কমিশন নিয়মের দোহাই দিয়ে জানাচ্ছে যে, সন্দেহজনক কিছু মনে হলে যে কারও গাড়ি তল্লাশি করার এক্তিয়ার তাদের গাইডলাইনে রয়েছে।
একঝলকে
- মমতার অভিযোগ: দমদম বিমানবন্দরে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
- তৃণমূলের দাবি: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে অভিষেক ও রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
- কমিশনের জবাব: মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি তল্লাশির কোনো খবর তাদের কাছে নেই; নিয়ম মেনেই তল্লাশি চালানো হয়।
- প্রক্রিয়া: বিশেষ ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইও।
- বর্তমান অবস্থা: তৃণমূলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছে।