বাজার অস্থির, এখন কি এফডি-তে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ?

শেয়ার বাজারের অস্থিরতায় ভরসা জোগাচ্ছে স্থায়ী আমানত
বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদেশি পুঁজির ক্রমাগত বহিঃপ্রবাহে শেয়ার বাজার বর্তমানে বেশ টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। বাজারের এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ সুরক্ষায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ বা স্থায়ী আমানত আবারও অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় ব্যাঙ্কগুলোতে আমানতের ওপর বর্তমান সুদের হার বজায় থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য এই হারগুলো নিশ্চিত বা ‘লক’ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ।
বিনিয়োগের কৌশল ও সুদের হারের প্রভাব
বর্তমানে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলো গড়ে ৭% থেকে ৭.৫% এবং সরকারি ব্যাঙ্কগুলো ৬.৫% থেকে ৭% হারে সুদ দিচ্ছে। ক্ষুদ্র অর্থলগ্নি ব্যাঙ্কগুলোতে এই হার ৮% বা তার বেশি হতে পারে। সুদের হারের মাত্র ১ শতাংশ পার্থক্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে। মুদ্রাস্ফীতির হার ৪.৬% থেকে ৫.২% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে, বিনিয়োগকারীদের এখন ‘ল্যাডারিং’ কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। অর্থাৎ, পুরো টাকা একবারে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন মেয়াদে ভাগ করে বিনিয়োগ করলে তারল্য ও মুনাফার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
মূলধন সুরক্ষা এবং সুনিশ্চিত রিটার্নের গুরুত্ব মাথায় রেখে বিনিয়োগকারীদের প্রতিটি ব্যাঙ্কে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত রাখা যুক্তিযুক্ত, কারণ এই পরিমাণ ডিআইসিজিসি (DICGC) দ্বারা বিমাভুক্ত। মুদ্রাস্ফীতির হার মাথায় রেখে মেয়াদপূর্তির সময় আমানতগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করলে প্রকৃত মুনাফা অর্জনে সুবিধা হবে। বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও স্থায়ী আমানত একটি সুষম পোর্টফোলিও গঠনের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।
এক ঝলকে
- শেয়ার বাজারের অস্থিরতায় বিনিয়োগ সুরক্ষায় আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফিক্সড ডিপোজিট।
- আরবিআই-এর রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় সুদের হার এখন স্থিতিশীল, যা বিনিয়োগের সঠিক সময়।
- ‘ল্যাডারিং’ কৌশল অনুসরণের মাধ্যমে তারল্য নিশ্চিত করে মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
- বিনিয়োগ সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যাঙ্কে অর্থ ভাগ করে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।