ভোটের ঠিক আগেই ডিউটি বদল, কেন এই রহস্যময় সিদ্ধান্ত?

ভোটের মুখে ভোটকর্মীদের ডিউটি বদল নিয়ে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকা সমাজ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাত্র সাত দিন আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটকর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের দুই দফার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পরেও, হঠাৎ করে দায়িত্ব পরিবর্তনের নির্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা। অনেককেই ফার্স্ট পোলিং অফিসারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সেকেন্ড পোলিং অফিসার বা এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই আকস্মিক পরিবর্তনকে কমিশনের ‘সমন্বয়ের অভাব’ বলে গণ্য করছেন অনেকে।
প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন
ভোটকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অভ্যস্ত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই হঠাৎ ডিউটি পরিবর্তন কাজের মান ও গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলে তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে, এই অগোছালো ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতির দিকেই আঙুল তুলছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।
যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই বিতর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগীর দাবি, ফার্স্ট ও সেকেন্ড পোলিং অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু প্রায় একই, তাই দায়িত্ব রদবদলে কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ভোটকর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই আস্থাহীনতা ভোট পরিচালনার দিনগুলোতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এক ঝলকে
- আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই ভোটকর্মীদের ডিউটি রদবদল নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
- প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পর দায়িত্ব বদলে ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকারা, প্রশ্ন তুলছেন কমিশনের স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিয়ে।
- কমিশন জানিয়েছে, ভিন্ন পদের কাজের প্রকৃতি একই হওয়ায় মূল ভোটগ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না।
- হঠাৎ এই পরিবর্তনের জেরে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।