১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং! অন্ধকারে ডুবল পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আঁচ পাকিস্তানে: তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত জনজীবন
পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মারাত্মক জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এলএনজি (LNG) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তানে ৪৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে, যা দেশটির মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ। এর ফলে শহরাঞ্চলে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
উৎপাদন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব
জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশের শিল্পখাতে। ফেডারেশন অফ পাকিস্তান চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফপিসিসিআই)-এর তথ্যমতে, শিল্পকারখানায় দৈনিক অন্তত আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের হার কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তান মূলত কাতারের এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হলেও, সেদেশের প্ল্যান্টে আঘাতের কারণে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় বিকল্প উৎস খোঁজা ছাড়া উপায় নেই দেশটির সামনে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের চড়া দাম পাকিস্তানের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানের এলএনজি আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
- দেশজুড়ে ৪৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
- জ্বালানি সংকটে দেশের রপ্তানি ও শিল্প উৎপাদন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম অত্যধিক হওয়ায় পাকিস্তানের বিকল্প জ্বালানি সংগ্রহের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।