পুতিনের ঘনিষ্ঠ নেতার পাকিস্তান প্রেম কি ভারতের জন্য বড় বিপদ?

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা: পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলল মস্কো
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ক্রেমলিন। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের মতে, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা এড়াতে ইসলামাবাদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে ব্যবহার করতে চায় মস্কো। মধ্যপ্রাচ্যে এই কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছে রাশিয়া।
পরমাণু বিতর্ক ও জ্বালানি কৌশল
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা নিরসনে রাশিয়া নিজ দায়িত্বে ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় মস্কো। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কূটনৈতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান ইস্যুতে নিজের প্রভাব বজায় রাখলেও, ভারতের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্বে কোনো হেরফের করছে না রাশিয়া। পেসকভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মস্কো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি কৌশলে ভারতের অবস্থান অটুট থাকছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার জেরে বর্তমানে বিশ্ববাজারে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘাটতি রাতারাতি পূরণ করা সম্ভব নয় বিধায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা আরও কিছুকাল স্থায়ী হতে পারে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে ইরান ও পাকিস্তানের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখাই রাশিয়ার এখন প্রধান লক্ষ্য।
এক ঝলকে
- মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানিয়েছে ক্রেমলিন।
- ইরান ইস্যুতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেশটির ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।
- বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার আশঙ্কা।
- পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটলেও ভারতের সাথে রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব অপরিবর্তিত থাকছে।