এপ্রিল পার তবুও অধরা ডিএ, অষ্টম পে কমিশনের জটেই কি বিপাকে কেন্দ্রীয় কর্মীরা?

মহার্ঘ ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা: কেন্দ্রীয় কর্মীদের উদ্বেগ ও বর্তমান পরিস্থিতি
চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ঘোষণা আসেনি। সাধারণত মার্চ মাসেই এই ঘোষণা সম্পন্ন হলেও এবার তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রায় ৫৪ লক্ষ কর্মী এবং ৬৮ লক্ষ পেনশনভোগীর মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক স্তরে ফাইল প্রক্রিয়াকরণের দীর্ঘসূত্রতা এবং অষ্টম পে কমিশনের রূপরেখা তৈরির কাজ চলমান থাকায় এই ঘোষণা কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
অষ্টম পে কমিশনের প্রভাব ও সম্ভাব্য হার
সপ্তম পে কমিশনের মেয়াদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ায় বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সরকারি বেতন কাঠামো। নতুন পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং মহার্ঘ ভাতার সমন্বয় জটিলতা তৈরি করেছে। তবে মূল্যসূচক (AICPI-IW) অনুযায়ী, মহার্ঘ ভাতা ২% থেকে ৩% বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বর্তমানে ৫৮% হারে ডিএ পাওয়া কর্মীরা নতুন ঘোষণায় ৬০% বা ৬১% হারে ভাতা পাওয়ার আশা করছেন। সরকারি সূত্রমতে, ঘোষণা দেরিতে হলেও কর্মীরা গত ১ জানুয়ারি থেকে বর্ধিত ডিএ-এর বকেয়া পাওনা প্রাপ্য হবেন।
প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে আগামী এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ কিংবা মে মাসের প্রথম দিকেই সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি ফেরাবে এবং বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান বিভ্রান্তি নিরসনে সহায়ক হবে।
এক ঝলকে
- মার্চ মাসে ডিএ ঘোষণা হওয়ার রীতি থাকলেও ২০২৬ সালে তা এপ্রিলের মাঝামাঝি এসেও ঝুলে আছে।
- অষ্টম পে কমিশন গঠন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিলম্বই এই দেরির মূল কারণ।
- বর্তমানে কর্মরতরা ৫৮% হারে ডিএ পাচ্ছেন, যা ২-৩% বেড়ে ৬০% বা ৬১% হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- বিলম্বিত ঘোষণা সত্ত্বেও কর্মীরা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বকেয়া (এরিয়ার) টাকা পাবেন।