বহু প্রার্থী নিরক্ষর, শুধু সইটুকু করতে পারেন ২৯ জন

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে চাওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞানের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি, যা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
হলফনামায় শিক্ষার মলিন ছবি
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জন সম্পূর্ণ নিরক্ষর এবং ২৯ জন কেবল নিজের নামটুকু সই করতে পারেন। প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়। ৩২ জন প্রার্থী পঞ্চম শ্রেণি এবং ১৮০ জন অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছেন। এছাড়া দশম শ্রেণির গণ্ডি পার করেছেন ২৪৬ জন প্রার্থী। শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তুলে ধরছে।
গণতন্ত্র ও যোগ্যতার লড়াই
নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীর জনপ্রিয়তাকে শিক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো ও আইন প্রণয়নের জটিলতা বোঝার জন্য একজন জনপ্রতিনিধির ন্যূনতম শিক্ষা থাকা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর জয় পরাজয় আগামী দিনে বিধানসভার গুণগত মানে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জন সম্পূর্ণ নিরক্ষর।
- মাত্র স্বাক্ষর করতে পারেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২৯ জন।
- ১৮০ জন প্রার্থী অষ্টম শ্রেণি এবং ২৪৬ জন দশম শ্রেণি পাশ করেছেন।
- জনপ্রতিনিধিদের এই শিক্ষাগত মান নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।