ভোটার তালিকায় নাম নেই, তবুও প্রিসাইডিং অফিসারের ডিউটি! চরম ভোগান্তিতে শিক্ষিকা

ভোটার তালিকায় নাম নেই, তবুও প্রিসাইডিং অফিসারের ডিউটি! চরম ভোগান্তিতে শিক্ষিকা

ভোটার তালিকায় নাম নেই, অথচ প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব! প্রশাসনিক জটিলতায় বিপাকে শিক্ষিকা

ভোটের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা নতুন নয়, তবে নদীয়ায় ঘটা সাম্প্রতিক একটি ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার নতুন নজির গড়েছে। রানাঘাট লালগোপাল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মিঠু খাতুন গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। অথচ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে তার নাম বাদ পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিজের ভোটাধিকার হারানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তাকে ভোট পরিচালনার জন্য ‘প্রিসাইডিং অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই বৈপরীত্য তাকে চরম মানসিক ও পেশাগত সংকটে ফেলেছে।

প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব ও আস্থার সংকট

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, নাম সংশোধনের জন্য পাসপোর্টসহ যাবতীয় প্রামাণ্য নথি জমা দেওয়া এবং শুনানির মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। উল্টোদিকে, তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার নির্দেশ আসায় তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। বিদ্যালয়ের পরিচালনা সমিতির মতে, অপরিকল্পিতভাবে এলাকাভিত্তিক ভোটার তালিকা (SER) তৈরির খামখেয়ালিপনা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ এই প্রক্রিয়ার কারণে একদিকে যেমন নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তেমনি ভোটকর্মী হিসেবে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।

ঘটনার দ্রুত সুরাহা না হলে আসন্ন নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মনোবল ও কর্মতৎপরতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিজিটাল যুগে নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেও, যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের অভাবে এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ভোটের তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে রানাঘাটের এক শিক্ষিকার, অথচ তাকেই প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • প্রয়োজনীয় নথি ও পাসপোর্টের মতো প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিনের ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
  • প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই শিক্ষিকা বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং ভোটাধিকার ফিরে পেতে ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছেন।
  • অপরিকল্পিতভাবে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ার কারণে কেবল শিক্ষিকা নয়, একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *