আইটি অফিসের আড়ালে ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্থা: চরম অধঃপতনের নেপথ্যে কারা?

টিসিএস নাসিক কেন্দ্রে ধর্মান্তকরণ ও হেনস্থার অভিযোগ: তোলপাড় আইটি জগৎ
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর নাসিক শাখায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ঘটনা পুরো দেশে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কয়েক বছর ধরে এই শাখার কিছু অসাধু টিম লিডার ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মতৎপরতা ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। কর্মীদের বয়ান অনুযায়ী, ল্যাপটপ বা দাপ্তরিক কাজের বাইরে সেখানে গড়ে উঠেছিল এক ‘শোষণ চক্র’, যেখানে মহিলা কর্মীদের পোশাক ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে নিয়মিত কুরুচিকর মন্তব্য করা হতো। এছাড়া, কৃষ্ণা নামে এক কর্মীকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বাধ্যবাধকতার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে।
নিরাপত্তার আড়ালে অপকর্ম ও আইনগত পদক্ষেপ
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের ভেতরে নিজস্ব অপরাধমূলক কাজকর্ম গোপন রাখতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রমাণের দোহাই দিয়ে মোবাইল, ব্যাগ ও এমনকি লাঞ্চ বক্স ডেক্স থেকে দূরে রাখা হতো, যাতে কোনো ভিডিও বা অডিও রেকর্ড করা সম্ভব না হয়। এই ঘটনায় নাসিক পুলিশ ইতিমধ্যে সিট (SIT) গঠন করেছে এবং প্রধান অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার, দানিশ শেখ-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টিসিএস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এই ঘটনাকে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ আখ্যা দিয়েছেন এবং সংস্থাটির চিফ অপারেটিং অফিসার আরতি সুব্রমানিয়ানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- টিসিএস নাসিক কেন্দ্রে কর্মীদের হেনস্থা ও জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- তথ্যপ্রমাণ লোপাটে অফিসের ভেতর নিরাপত্তার নামে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
- ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে টিসিএস-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে বিশেষ তদন্ত কমিটি।
- টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।