পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় চমক, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তোলপাড়!

সাত বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে ক্রিপ্টো নীতিতে বড় বদল পাকিস্তানের
দীর্ঘ সাত বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করল পাকিস্তান। এতদিন দেশটিতে ক্রিপ্টো-সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেন নিষিদ্ধ থাকলেও, সম্প্রতি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিতভাবে ক্রিপ্টো সংস্থাগুলোকে দেশের মূলধারার ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, এখন থেকে ক্রিপ্টো সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাবে। তবে ব্যাঙ্কগুলোকে কোনোভাবেই সরাসরি ক্রিপ্টো কেনা-বেচা বা তাতে বিনিয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। একে মূলত ‘নিয়ন্ত্রিত অন্তর্ভুক্তি’ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আর্থিক সংকট ও ‘ট্রাম্প এফেক্ট’
পাকিস্তানের এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের প্রভাব রয়েছে। একদিকে রয়েছে গভীর আর্থিক সংকট, বাণিজ্য ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি। প্রথাগত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় লেনদেন অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, ক্রস-বর্ডার লেনদেনে স্টেবলকয়েনকে একটি আধুনিক ও দ্রুত বিকল্প হিসেবে দেখছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্রিপ্টো অর্থনীতির প্রসারে যে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, তা-ও এই পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বেশ কিছু ক্রিপ্টো উদ্যোগের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়াকে বিশেষজ্ঞরা ‘ট্রাম্প এফেক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
পাকিস্তানের এই উদ্যোগ দেশটিতে ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশটিতে দেড় থেকে চার কোটি ক্রিপ্টো ব্যবহারকারী রয়েছে, যাদের প্রযুক্তিজ্ঞান ও ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেশটির অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে। সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক চাপ কাটাতে এই নীতিগত পরিবর্তন পাকিস্তান সরকারকে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ সহজতর করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘ সাত বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে ক্রিপ্টো সংস্থাগুলোকে ব্যাঙ্কিং সুবিধায় অন্তর্ভুক্তি।
- পুরোপুরি বৈধতা না দিলেও, ‘নিয়ন্ত্রিত অন্তর্ভুক্তি’র মাধ্যমে লেনদেন সহজ করার কৌশল গ্রহণ।
- তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজ করতে স্টেবলকয়েনকে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা।
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিপ্টো-বান্ধব নীতি ও মার্কিন প্রযুক্তির সাথে সংযোগ স্থাপনের কৌশলগত পদক্ষেপ।