নারীর অধিকারে সমর্থন থাকলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণের নামে ষড়যন্ত্র রুখবে তৃণমূল

নারী সংরক্ষণ বিলকে পূর্ণ সমর্থন জানালেও সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফর সেরে ফিরে শুক্রবার দমদমের এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সীমানা পুনর্নির্ধারণের আড়ালে আদতে বড় কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছক কষছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রক্রিয়া কার্যকর করার মাধ্যমে বিজেপি বিশেষ কোনো রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গণতান্ত্রিক উৎসবে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি পেশিশক্তি ব্যবহারের বদলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। শুক্রবার রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বিরোধীদের প্রচার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই ইডি, সিবিআই এবং আয়কর দফতরকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশে এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।
দলীয় কর্মীদের অবিচল থাকার বার্তা
কেন্দ্রীয় সংস্থার অতিসক্রিয়তাকে গণতন্ত্রের জন্য অবমাননাকর বলে বর্ণনা করে তৃণমূল নেত্রী তাঁর কর্মীদের ভীতিমুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সরাসরি নির্বাচনে লড়ার সাহস হারিয়ে বিজেপি এখন তদন্তকারী সংস্থাগুলোর আড়ালে আশ্রয় নিচ্ছে। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীদের প্রতি তাঁর কড়া বার্তা, কোনো সংস্থার অভিযানের ভয়ে মাথা নত করার প্রয়োজন নেই। বরং এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সাহসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এক ঝলকে
- নারী সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- নির্বাচনের আগে ইডি, সিবিআই ও আয়কর দফতরের অতিসক্রিয়তাকে তীব্র আক্রমণ।
- প্রার্থীর বাড়িতে আয়কর তল্লাশিকে প্রচার বাধাগ্রস্ত করার কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে দলের সর্বস্তরের কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার ডাক।