নারী শক্তি বিল নিয়ে সংসদে ধুন্ধুমার, বিরোধীদের উৎসবকে চরম অপমান বললেন অমিত শাহ

সংসদে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বা মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি লোকসভায় খারিজ হয়ে গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে যখন জয়ের উল্লাস দেখা যাচ্ছে, ঠিক তখনই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশের ৭০ কোটি নারীর সঙ্গে প্রতারণা করে বিরোধীরা যে উৎসব পালন করছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
অধিকার হরণের অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংঘাত
অমিত শাহের দাবি, কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলো পরিকল্পিতভাবে নারীদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসভায় ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নিলেও বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোট নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সরকারি পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিরোধী শিবিরের বিরোধিতায় বিলটি মাত্র ৫৪টি ভোটের ব্যবধানে পড়ে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, দশকের পর দশক ধরে নিজেদের অধিকারের অপেক্ষায় থাকা মহিলাদের জন্য এই দিনটি একটি বড় বিশ্বাসঘাতকতার দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কড়া হুঁশিয়ারি
এই বিল বাতিলের ফলে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নারী শক্তির এই অপমান কেবল সংসদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর রেশ অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। তাঁর মতে, বিরোধীদের এই ‘অহংকারের উল্লাস’ আসলে এক বড় পরাজয়ের সংকেত। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ আগামী প্রতিটি নির্বাচনে বিরোধীদের নারী শক্তির প্রবল রোষের মুখে পড়তে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
এক ঝলকে
- দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে লোকসভায় খারিজ হয়ে গেল নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বা মহিলা সংরক্ষণ বিল।
- বিলের পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছে, যার ফলে প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোটের লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া সম্ভব হয়নি।
- বিরোধীদের এই অবস্থানকে ৭০ কোটি নারীর সঙ্গে ‘প্রতারণা’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
- এই বিল কার্যকর না হওয়ায় আপাতত লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পথ আটকে গেল।