সংসদে বড় ধাক্কা খেল মোদী সরকার, বিরোধী জোটের জোরালো বাধায় খারিজ নারী সংরক্ষণ বিল

সংসদের বিশেষ অধিবেশনে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত পাস হতে পারল না বহু প্রতীক্ষিত নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংশোধনী বিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকসভায় ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয় শাসক দল। বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও ৫৪টি ভোট কম থাকায় স্পিকার ওম বিরলা বিলটি খারিজ ঘোষণা করেন। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ যখন এই বিলের দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন সংসদের এই ফলাফলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেন্দ্রের বড় পরাজয় হিসেবে দেখছেন।
বিরোধীদের কৌশল ও তীব্র সংঘাত
আলোচনার শুরু থেকেই বিলটি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নজিরবিহীন বাগযুদ্ধ দেখা যায়। বিলটিকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, এটি প্রকৃত নারী ক্ষমতায়নের বদলে মূল সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও স্পষ্ট জানান যে, ওবিসি সংরক্ষণকে বাইরে রাখা এবং পুরনো আদমশুমারির ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিরোধী জোটের এই অনড় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত বিলটি মুখ থুবড়ে পড়ে।
প্রশাসনিক যুক্তি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
সরকার পক্ষের হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবিধান মেনে পর্যায়ক্রমিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, বহু সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষে পৌঁছানোয় প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়া জরুরি ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত আহ্বান সত্ত্বেও বিরোধীরা তাদের অবস্থানে অটল থাকে। বিলটি খারিজ হওয়ায় আপাতত ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে নারী সংরক্ষণের ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
এক ঝলকে
- লোকসভায় ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়ে খারিজ হলো ১৩১তম নারী সংরক্ষণ বিল।
- বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা মেলেনি।
- ওবিসি সংরক্ষণহীনতা এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিলটির তীব্র বিরোধিতা করে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোট।
- এই পরাজয়কে গণতন্ত্রের জয় বলে দাবি করেছে বিরোধী শিবির, অন্যদিকে একে নারী ক্ষমতায়নের পথে বড় বাধা বলছে সরকার পক্ষ।