সাবধান না থাকলে কি আপনার ব্যাগে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে আপত্তিকর কিছু! বিস্ফোরক মমতামমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দমদম সেন্ট্রাল জেল ময়দানের সভা থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি-তৎপরতা নিয়ে কড়া আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দফার ভোটের মাত্র সাত দিন আগে আয়কর হানা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নাকা তল্লাশি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। এদিন নিজের ভাষণে ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা দিয়েছেন নেত্রী। তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষের ব্যাগে আপত্তিকর কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁসানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ব্যাগ নিয়ে সতর্কবার্তা ও বিস্ফোরক দাবি
গাড়ি বা ব্যাগ তল্লাশির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান যে, সাধারণ মানুষকে এই সময়ে অত্যন্ত সাবধানে থাকতে হবে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, চক্রান্ত করে কারোর ব্যাগে বাইরের কোনো আপত্তিকর বস্তু বা মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই প্রসঙ্গে তাঁর ‘গাঁজা কেস’ সংক্রান্ত মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। নেত্রীর মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধীদের চাপে ফেলতেই এই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
এজেন্সির ভূমিকা ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
এদিন সকালে দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানা নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের ঠিক আগেই কেন এই সক্রিয়তা দেখানো হচ্ছে। প্রয়োজনে এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ না করে দেশের সংস্থার মর্যাদা রক্ষা করা উচিত।
নির্বাচনের আগে এই ধরণের মন্তব্য এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী হেনস্থার অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা বিষয়টিকে স্রেফ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। ভোটের ময়দানে এই ‘ব্যাগ তল্লাশি’ বিতর্ক ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের মুখে নাকা তল্লাশির সময় ব্যাগে নজর রাখার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
- রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কারোর ব্যাগে মাদক ঢুকিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
- দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ কাজ করার বার্তা দিয়েছেন নেত্রী।