মোদী সরকারের ১২ বছরে এই প্রথম, লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল গুরুত্বপূর্ণ বিল!

এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মোচড়ের সাক্ষী থাকল ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে লোকসভায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা মোদী সরকারকে বড়সড় ধাক্কা দিল ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শিবির। আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নারী সংরক্ষণ সংশোধনী বিলটি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত লোকসভায় পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে। ১২ বছরের শাসনামলে এই প্রথম কোনো সরকারি বিল নিম্নকক্ষে পরাজিত হওয়ার নজির তৈরি হলো।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কে বড় ব্যর্থতা
শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকসভায় চরম নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এই বিলের ওপর ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়। সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য উপস্থিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে লোকসভার নিরিখে বিল পাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫২টি ভোট, কিন্তু সরকারের পক্ষে পড়েছে মাত্র ২৯৮টি ভোট। বিপক্ষে ২৩৩টি ভোট পড়ায় স্পিকার বিলটি খারিজ হওয়ার ঘোষণা দেন। এই পরাজয় কেন্দ্রের কৌশলগত পরিকল্পনা ও সংখ্যার সমীকরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সংঘাতের নেপথ্যে আসন পুনর্বিন্যাস
তত্ত্বগতভাবে বিরোধীরা নারী সংরক্ষণের বিরোধী না হলেও, আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার যে শর্ত কেন্দ্র জুড়ে দিয়েছিল, তা নিয়েই মূল আপত্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, বর্তমান আসন বিন্যাস বজায় রেখেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব ছিল। আসন বাড়ানোর এই শর্তকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইন্ডিয়া জোট একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এই মতপার্থক্যই শেষ পর্যন্ত বিলটিকে পরাজয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
রাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন হাতিয়ার
সংসদে এই পরাজয়কে কেন্দ্র ও বিরোধী উভয় পক্ষই এখন নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের কৌশল নিচ্ছে। বিজেপি যেখানে নারী সংরক্ষণ বিরোধী তকমা দিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ার চেষ্টা করবে, সেখানে বিরোধীরা একে মোদী সরকারের একগুঁয়েমির হার হিসেবে দেখছে। আসন পুনর্বিন্যাসের মারপ্যাঁচে আসল নারী অধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে বলে তারা পাল্টা প্রচার শুরু করেছে। ফলে আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে এই ইস্যুটি দেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- মোদী সরকারের ১২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিল লোকসভায় পরাজিত হলো।
- সংবিধান সংশোধনী বিলের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোটের বিপরীতে সরকারের পক্ষে পড়েছে মাত্র ২৯৮টি ভোট।
- আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে ৮৫০ করার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধীদের জোরালো আপত্তিতেই বিলটি আটকে যায়।
- নারী সংরক্ষণ কার্যকর না হওয়ার দায় নিয়ে এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।