“নারীদের নিয়ে রাজনীতি করছে কংগ্রেস, ব্যবহারযোগ্য বস্তু নয় তারা”: রবিশঙ্কর প্রসাদ

ভারতে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে সীমানা নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ। বর্তমান লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৩ শতাংশ আসন এখনই নারীদের জন্য বরাদ্দ করার যে দাবি কংগ্রেস তুলেছে, তাকে সরাসরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। প্রসাদের মতে, সীমানা নির্ধারণ না করে লোকসভা বা বিধানসভার আসন বিন্যাসে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা আইনত সম্ভব নয়।
আইনি জটিলতা ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
সাবেক এই আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৩ সালের নারী সংরক্ষণ আইনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে ২০২৬ সালের পরবর্তী প্রথম আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতেই সীমানা নির্ধারণ করা হবে। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব। কংগ্রেসের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র কর্তৃক সীমানা নির্ধারণ কমিশনকে গুরুত্ব না দেওয়ার সমালোচনা করে প্রসাদ বলেন, এটি একটি সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালের আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে এখনই এই পরিবর্তন আনা আইনসম্মত হবে না।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ইস্যুতে স্মৃতি ইরানিও কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতায় থাকলেও কংগ্রেস নারীদের কেবল স্বপ্নই দেখিয়েছে, কিন্তু প্রকৃত কাজ করেনি। এদিকে রবিশঙ্কর প্রসাদ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সীমানা নির্ধারণ ছাড়া তড়িঘড়ি করে আসন সংরক্ষণ করতে গেলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সেখানে আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মূলত এই আইনি ও ভৌগোলিক সমতা বজায় রাখতেই সরকার আদমশুমারির পরবর্তী সীমানা নির্ধারণের ওপর জোর দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকরের জন্য সীমানা নির্ধারণ বা পরিসীমন বাধ্যতামূলক।
- ২০২৬ সালের পরবর্তী আদমশুমারির রিপোর্টের ভিত্তিতেই আসন সংরক্ষিত হবে।
- যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া আসন বিন্যাস করলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কংগ্রেসের দাবিকে অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলে দাবি করেছে বিজেপি।