শ্রমিকদের বঞ্চিত করে চা বাগানের জমি যাচ্ছে শিল্পপতিদের হাতে! তোপ হিমন্তের

কালিম্পং জেলার গরুবাথানে নির্বাচনী প্রচার সভায় যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর অভিযোগ, দার্জিলিং পাহাড়ের চা শ্রমিকদের জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বাগানের খালি জমিগুলো বিলাসবহুল হোটেল তৈরির জন্য শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। এর বিপরীতে আসামে বিজেপি সরকার ৩ লক্ষ চা শ্রমিককে জমির পাট্টা দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
উন্নয়ন ও বঞ্চনার খতিয়ান
হিমন্ত বিশ্বশর্মা পাহাড়ের উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানান, আসাম সরকার বোড়ো অটোনমাস কাউন্সিলকে যেখানে ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, সেখানে বাংলার সরকার জিটিএকে দিয়েছে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা। মজুরির বৈষম্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দার্জিলিংয়ের শ্রমিকরা রেশন ছাড়া ২৫০ টাকা মজুরি পেলেও আসামের শ্রমিকরা রেশনসহ ২৮০ টাকা পাচ্ছেন। তৃণমূল সরকার পাহাড়ের সাধারণ মানুষের স্বার্থের বদলে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেও তিনি তোপ দাগেন।
পরিবর্তন ও গোর্খাদের অধিকার
গোর্খাদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী জানান, কংগ্রেসের সময় গোর্খাদের ওপর লাগানো ‘সন্দেহজনক ভোটার’-এর কলঙ্ক বিজেপি সরকার মুছে দিয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকদের আবাসন ও পাট্টা প্রদানের পাশাপাশি দার্জিলিংকে পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেই সঙ্গে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে ৩ হাজার টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর আশ্বাসও দেন তিনি।
এক ঝলকে
- চা শ্রমিকদের জমির পাট্টা না দিয়ে পর্যটন ব্যবসার জন্য শিল্পপতিদের জমি দেওয়ার অভিযোগ।
- আসামের তুলনায় পাহাড়ের উন্নয়ন ও চা শ্রমিকদের মজুরিতে বঞ্চনার দাবি।
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা এবং গোর্খাদের আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি।
- রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ৩ হাজার টাকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও আবাসন প্রকল্পের আশ্বাস।