নারী শক্তি বন্দন আইন রুখে দেওয়ার প্রতিবাদে সরব প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদের তুলোধোনা করে দিলেন কড়া বার্তা!

নারী শক্তি বন্দন আইন রুখে দেওয়ার প্রতিবাদে সরব প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদের তুলোধোনা করে দিলেন কড়া বার্তা!

সংসদে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ বাধার মুখে পড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এই আইনি বাধা দেওয়াকে তিনি ‘ভ্রূণহত্যা’র সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেছেন, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তাহীনতা থেকেই কংগ্রেস এবং তার মিত্র শক্তিরা নারীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ আক্রমণ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং ডিএমকে-কে সরাসরি নিশানা করেন। তিনি বলেন, নারী শক্তি বন্দন আইনের মাধ্যমে ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ উন্নীত করা এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের যে মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বিরোধীরা তা পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করেছে। তাঁর মতে, পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ধারক এই দলগুলি ভয় পাচ্ছে যে নারীরা ক্ষমতায়িত হলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে।

সংসদীয় অচলাবস্থা ও সরকারের অবস্থান

এই বিলটির বিরোধিতার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ ইস্যুটি। সরকারের পক্ষ থেকে আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির আশ্বাস দেওয়া হলেও, তা লিখিত আকারে বিলে না থাকায় আপত্তি জানায় বিরোধীরা। তবে প্রধানমন্ত্রী এই যুক্তিকে নিছক ‘অজুহাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে ২-৩ শতাংশ আসন কম থাকায় বিলটি হয়তো পাস হয়নি, কিন্তু ১০০ শতাংশ ভারতীয় নারীর সমর্থন তাঁর সরকারের সাথে রয়েছে এবং এই অধিকার আদায়ের লড়াই থামবে না।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

২০১৪ সালের পর এই প্রথম সরকারের কোনো বিল সংসদের নিম্নকক্ষে পরাজিত হলো। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর সচেতন নারী সমাজ বিরোধীদের এই পদক্ষেপ ভুলে যাবে না এবং আগামী দিনে এর যোগ্য জবাব দেবে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে আসন বণ্টন নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তাকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এক ঝলকে

  • বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ বাধার কারণে সংসদে পরাজিত হয়েছে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল।
  • মহিলা সংরক্ষণ বিলের পথ আটকানোকে ‘ভ্রূণহত্যা’র মতো পাপ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
  • কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টিকে এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।
  • আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের দাবিতে সরকার অনড় থাকবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *