অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে টিএমসি, তাই নারী শক্তি বিল পাস হতে দেয়নি: তোপ যোগী আদিত্যনাথের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গ খালি করার ডাক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে ফের হুঙ্কার ছাড়লেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা ও জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে আয়োজিত জনসভায় তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। যোগী অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীদের তোষণ করতে গিয়েই নারী শক্তি বন্দন বিধায়ক পাসের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল।
নারী অধিকার ও অনুপ্রবেশ ইস্যু
বক্তব্যের শুরুতেই যোগী আদিত্যনাথ কেন্দ্রীয় সরকারের নারী শক্তি বন্দন বিধায়কের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৯ সাল থেকে লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বামপন্থীরা সেই বিল পাসে বাধা দিয়েছে। তাঁর দাবি, এই বিরোধী দলগুলো অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে যতটা উৎসাহী, দেশের মা-বোনদের অধিকার দিতে ততটাই অনিচ্ছুক। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী সাধারণ মানুষের হক কেড়ে নিচ্ছে।
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের তুলনা
বাংলার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের তুলনা টেনে যোগী জানান, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে প্রায় ৭০০০ কলকারখানা বন্ধ হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে আলু ও ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া গেলেও বাংলায় কৃষকরা বঞ্চিত। তৃণমূলের ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ এখন শাসকের অত্যাচারে আতঙ্কিত এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না স্থানীয় ‘মাফিয়া’ চক্র।
ধর্মীয় মেরুকরণ ও সিএএ প্রসঙ্গ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হিন্দু বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে যোগী বলেন, বাংলায় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিলে বা দুর্গাপূজা করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে এখন আর দাঙ্গা হয় না, বরং ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রভাবে অপরাধীদের সম্পত্তি দখল করে গরিবদের আবাসন তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমর্থনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈনদের নাগরিকত্ব দিতে বিজেপি সরকার বদ্ধপরিকর এবং উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
এক ঝলকে
- অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিতেই নারী শক্তি বন্দন বিধায়কের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল।
- বাংলার বেকারত্ব ও শিল্পহীনতার জন্য সরাসরি মমতা সরকারকে দায়ী করেছেন যোগী।
- সিএএ কার্যকর করার মাধ্যমে হিন্দু ও সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
- উত্তরপ্রদেশের মতো বাংলায় ‘বুলডোজার নীতি’ ও ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ।