সংবিধান সংশোধন এড়িয়ে এবার বিকল্প পথে মহিলা সংরক্ষণ আনতে চলেছে মোদী সরকার

সংবিধান সংশোধন এড়িয়ে এবার বিকল্প পথে মহিলা সংরক্ষণ আনতে চলেছে মোদী সরকার

দীর্ঘ ১২ বছরে এই প্রথম লোকসভায় বিরোধীদের সম্মিলিত শক্তির কাছে নতিস্বীকার করতে হয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় খারিজ হয়ে গিয়েছে। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় বিল পাসের জন্য ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন থাকলেও সরকারের পক্ষে পড়ে মাত্র ২৯৮টি ভোট। এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর সরাসরি সংবিধান সংশোধন না করে বিকল্প কোনো আইনি পথে লক্ষ্যপূরণ করা যায় কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্র।

কৌশল বদলের পথে কেন্দ্র
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করাকে মোদী সরকার সম্মানের লড়াই হিসেবে দেখছে। সরকার পক্ষ বুঝতে পেরেছে যে, বর্তমান সংসদীয় পাটিগণিতে সংবিধান সংশোধনী আনা কার্যত আসাম্ভব। তাই বিরোধীদের সমর্থনের ওপর নির্ভর না করে প্রশাসনিক পর্যায় বা বিশেষ আইনি কাঠামোর মাধ্যমে আসন পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকার এই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে না এবং বিলটি কার্যকর হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

ব্যর্থতার নেপথ্যে এনডিএ শিবিরে ফাটল
সংসদের এই ভোটাভুটি শাসক জোটের অন্দরের দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। পরিসংখ্যান বলছে, এনডিএ-র নিজস্ব শক্তির তুলনায় প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা অনেক কম। তৃণমূল কংগ্রেস বা শিবসেনার (উদ্ধব গোষ্ঠী) মতো বিরোধী দলের বেশ কিছু সাংসদ অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বিরোধী শিবির ২৩০টি ভোট জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও সরকার পক্ষের ভোট ৩০০-র গণ্ডি পেরোতে পারেনি। এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে, খোদ এনডিএ শিবিরের কয়েকটি শরিক দল অন্তরালে বিরোধীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা মোদী-শাহ জুটির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক ঝলকে

  • লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল খারিজ হয়ে গিয়েছে।
  • সংবিধান সংশোধনী এড়াতে সরকার এখন বিকল্প আইনি ও প্রশাসনিক পথ খুঁজছে।
  • ৫২৮ জন সাংসদের মধ্যে সরকারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৯৮ জন, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে ৫৪টি কম।
  • পরাজয় সত্ত্বেও ২০২৯ সালের আগে সংরক্ষণ কার্যকর করার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *