ভালোবাসার সামনে অন্ধ ধর্ম না কি পরিবার! দৃষ্টিহীন যুগলের লড়াই এবার দিল্লি হাইকোর্টে

ভালোবাসার সামনে অন্ধ ধর্ম না কি পরিবার! দৃষ্টিহীন যুগলের লড়াই এবার দিল্লি হাইকোর্টে

দিল্লিতে এক আবেগঘন ও মানবিক সংকটের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে বিচারব্যবস্থাকে। এক শতভাগ দৃষ্টিহীন যুবক তার একইভাবে দৃষ্টিহীন প্রেমিকাকে উদ্ধারের জন্য দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। যুবকের অভিযোগ, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে তার প্রেমিকাকে পরিবারের সদস্যরা জোরপূর্বক আটকে রেখেছে এবং তাদের স্বাভাবিক সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি করছে। সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা এই পিটিশনটি বর্তমানে বিচারপতি নবীন চাওলা ও বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজার বেঞ্চে বিচারাধীন।

পারিবারিক বাধা ও আইনি লড়াই

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবেদনকারী রাম কৃপাল এবং তার প্রেমিকা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুবতী দিল্লির রানি খেরা এলাকার একটি হোস্টেলে থাকতেন। গত ১৬ ও ১৭ মার্চ রাতে তার পরিবার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তাকে সেখান থেকে জোর করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তাকে বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ মার্চ যুবতী কোনোভাবে অন্যের ফোন ব্যবহার করে রাম কৃপালকে জানান যে, তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছে।

ধর্মীয় বিভেদ ও পুলিশের ভূমিকা

এই সংকটের মূলে রয়েছে ধর্মীয় পার্থক্য। যুবক হিন্দু এবং যুবতী মুসলিম হওয়ায় পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকার করছে। রাম কৃপাল গত ১২ এপ্রিল পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে যুবতীর বাবা-মাকে নোটিশ পাঠিয়েছে এবং আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তিনি স্বাধীনভাবে নিজের মতামত জানাতে পারেন।

এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সমাজে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকারের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। আদালত যদি যুবতীর পক্ষে রায় দেয়, তবে তা ভিন্ন ধর্মের ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আপাতত ১৮ এপ্রিলের শুনানির দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সকলে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই দৃষ্টিহীন যুগলের ভবিষ্যৎ।

এক ঝলকে

  • দিল্লির দুই শতভাগ দৃষ্টিহীন যুগলকে আলাদা করার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা।
  • ভিন্ন ধর্মের কারণে পরিবার যুবতীকে আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ প্রেমিকের।
  • আদালত ১৮ এপ্রিল যুবতীকে সশরীরে হাজির করার জন্য বাবা-মাকে নির্দেশ দিয়েছে।
  • পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদে বিচার চাইলেন যুবক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *